ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আমিরাতে ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটে বড় সুখবর, রাতারাতি বদলে গেল ভিসার নিয়ম

২০২৬ জুন ১০ ২২:১৮:৩৪

আমিরাতে ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটে বড় সুখবর, রাতারাতি বদলে গেল ভিসার নিয়ম

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মসংস্থানপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয়। শ্রমবাজারকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদন প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ, দ্রুত এবং কম খরচের। ফলে বিদেশি কর্মী, নিয়োগকর্তা এবং বিভিন্ন সেবাগ্রহীতা আগের তুলনায় অনেক সহজে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে পারবেন।

মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। কিছু ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রের পরিমাণ ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই অধিকাংশ সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি অনলাইন জনপরামর্শ কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে। এতে নাগরিক, নিয়োগকর্তা ও বিদেশি কর্মীরা বর্তমান ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন। বিশেষ করে অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করার বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে।

বর্তমানে আমিরাতে ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ, চাকরি পরিবর্তন, পার্ট-টাইম চাকরি, ফ্রিল্যান্স কাজ, শিক্ষার্থী কর্মসংস্থান, গোল্ডেন ভিসাধারীদের কর্মসংস্থান, পরিবারভিত্তিক স্পন্সরশিপধারীদের চাকরির সুযোগ এবং গৃহকর্মীদের জন্য বিশেষ পারমিট উল্লেখযোগ্য।

নতুন ব্যবস্থার ফলে বিদেশে অবস্থানরত কর্মীদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানরত কর্মীরা সহজেই এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যের ভিসায় থাকা ব্যক্তিরাও বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও সুখবর রয়েছে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেও ফ্রিল্যান্স পারমিটের মাধ্যমে বৈধভাবে কাজ করতে পারবেন। তরুণদের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক ওয়ার্ক পারমিট এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সুবিধাও আরও কার্যকর করা হয়েছে।

আমিরাত সরকার মনে করছে, এসব সংস্কারের ফলে দেশটির বেসরকারি খাত আরও শক্তিশালী হবে, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক শ্রমবাজার গড়ে উঠবে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কর্মীদের জন্য এটি নতুন সুযোগের দ্বার খুলে দিতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত