ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

এস আলমের সম্পত্তি জব্দ করলো সাইপ্রাস

২০২৬ মে ৩০ ১৯:০৯:০৩

এস আলমের সম্পত্তি জব্দ করলো সাইপ্রাস

বাংলাদেশের আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) এবং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ। অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির আদালত এই নির্দেশনা দিয়েছে।

সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত গত ১৯ মে সম্পত্তি জব্দের আদেশ জারি করে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অনুরোধের ভিত্তিতে সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিংবিরোধী ইউনিট মোকাস (MOKAS) আদালতে আবেদন করলে এ আদেশ দেওয়া হয়। জব্দ করা সম্পত্তিটি সাইপ্রাসের পারেকলিসিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি দুইতলা বাড়ি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংক জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি, ট্রাস্ট এবং সম্পদের মালিকানা কাঠামোও পর্যালোচনা করছেন।

এই ঘটনার একদিন পর বাংলাদেশের একটি আদালত ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ৬ মিলিয়ন ইউরোর ঋণসংক্রান্ত মামলায় এস আলমসহ তার ১০ আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩৪টি বাস কেনার জন্য নেওয়া ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করা হয়নি।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি জানিয়েছেন, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থের একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর এবং অন্যান্য দেশে সম্পত্তি ও বিনিয়োগে ব্যবহার করা হতে পারে।

তদন্তের আওতায় রয়েছে এস আলমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও। বিশেষ করে ২০১৬ সালে অধিগ্রহণ করা ACLARE International এবং সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিভিত্তিক কয়েকটি কোম্পানি ও ট্রাস্টের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে এস আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েলের মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, তার সব বিনিয়োগ বৈধ বিদেশি উৎস থেকে এসেছে এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

উল্লেখ্য, এস আলম ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের আলোচিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে এই সম্পত্তি জব্দের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার বিদেশি বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত