ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে যেসব বড় সুবিধা

২০২৬ মে ৩০ ১৭:২৮:৪৪

১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে যেসব বড় সুবিধা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস, পেনশন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হলেও প্রায় সব গ্রেডেই মূল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এনে এই সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বর্তমান ৭৮ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে ১০ম গ্রেডের বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো নিম্ন গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার সম্ভাবনা। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে যে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেসিক বেতন শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

শুধু বেতন নয়, পেনশন সুবিধাতেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য পেনশনভোগীদের জন্যও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেলের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

তবে উল্লেখ্য, এসব তথ্য বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশের ভিত্তিতে আলোচিত হচ্ছে। নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো এবং বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সরকারের গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত