ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বেতন বৈষম্য কমাতে বড় উদ্যোগ: কার্যকর হতে পারে নবম পে স্কেল

২০২৬ মে ৩০ ০১:৩৬:৩১

বেতন বৈষম্য কমাতে বড় উদ্যোগ: কার্যকর হতে পারে নবম পে স্কেল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নতুন বেতন কাঠামো। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলে আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করতে গঠিত কমিটির বৈঠকে বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ৫০ শতাংশ বাড়লে তা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। দ্বিতীয় গ্রেডেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আসতে পারে, যেখানে বেতন ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকার মধ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডেও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চতুর্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ রয়েছে।

পঞ্চম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্তও ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে এসব গ্রেডের চাকরিজীবীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নিম্ন গ্রেডের বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব। যদি ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বেসিক দ্বিগুণ করা হয়, তাহলে বর্তমান বেতনের তুলনায় বড় ধরনের আর্থিক পরিবর্তন আসবে, যা নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে।

সব মিলিয়ে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত