ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বের সবচেয়ে দামি গরু ‘ভিয়াতিনা-১৯’, বিক্রি হলো যে দামে

২০২৬ মে ২৬ ১৯:০৭:২৩

বিশ্বের সবচেয়ে দামি গরু ‘ভিয়াতিনা-১৯’, বিক্রি হলো যে দামে

বিশ্বের সবচেয়ে দামি গরু হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছে নেলোর জাতের ‘ভিয়াতিনা-১৯’। ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস অঞ্চলে আয়োজিত এক নিলামে গরুটি বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ কোটি টাকার সমান। এই অবিশ্বাস্য দামের মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও জায়গা করে নিয়েছে ভিয়াতিনা-১৯।

মাত্র ৫৩ মাস বয়সী এই গরুর ওজন প্রায় এক হাজার ১০১ কেজি, যা একই জাতের সাধারণ গরুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশাল শরীর, সাদা চকচকে লোম, ঢিলেঢালা চামড়া এবং কাঁধের বড় কুঁজের কারণে গরুটি সহজেই সবার নজর কাড়ে।

শুধু দাম নয়, সৌন্দর্য ও গঠনের কারণেও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে ভিয়াতিনা-১৯। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় এটি ‘মিস সাউথ আমেরিকা’ খেতাব জিতে নেয়। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতাকে অনেকেই ‘গরুর মিস ইউনিভার্স’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিয়াতিনা-১৯-এর সবচেয়ে বড় শক্তি তার বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য ও শক্তিশালী পেশিগঠন। এ কারণেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রজনন কর্মসূচিতে এর ভ্রূণের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে।

পশুচিকিৎসক লোরানি মার্টিন্স জানিয়েছেন, একজন খামারি যেসব গুণ একটি আদর্শ গরুর মধ্যে খোঁজেন, তার প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই রয়েছে ভিয়াতিনা-১৯-এর মধ্যে। তাই এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিখুঁত গরুর উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নেলোর জাতের গরু মূলত গরম আবহাওয়ায় টিকে থাকার ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে ব্রাজিল এই জাতের গরুর সবচেয়ে বড় প্রজননকারী দেশ। আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই জাতের গরু রপ্তানি করা হয়।

জানা গেছে, নেলোর বা অঙ্গোল জাতের গরুর উৎপত্তি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের প্রকাশম জেলায়। পরে ১৮০০ সালের দিকে এই জাতের গরু ব্রাজিলে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে দেশটির অধিকাংশ গরুই নেলোর জাতের, যেগুলো মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত