ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন ‘মৃ`ত্যুফাঁদ’, ঝরেছে শতাধিক প্রাণ

২০২৬ মে ২৪ ২৩:৩৭:১৭

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন ‘মৃ`ত্যুফাঁদ’, ঝরেছে শতাধিক প্রাণ

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন যেন পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে। প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি আর দুর্বল তদারকির কারণে এই মহাসড়কে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। গত কয়েক মাসে শতাধিক মানুষের মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে জনমনে।

সবশেষ শনিবার পটিয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে দুই কিশোর। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আনসার ক্যাম্প এলাকায় দ্রুতগতির একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ওয়ালিদ আল তাসনিম ও শাহাদাত হোসেন সামি। গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের আরেক বন্ধু তানভিরুল ইসলাম জয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মুহূর্তেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। দুর্ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায় তিন কিশোরকে। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও দুইজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মাসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে শতাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুধু লোহাগাড়ার চুনতি এলাকাতেই একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে বহু মানুষের। ঈদের সময়ও এই মহাসড়কে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন যাত্রী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরু দুই লেনের সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। অনেক স্থানে ডিভাইডার না থাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও স্থানীয় যান চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও কেবল অভিযান দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সড়ক প্রশস্তকরণ, আধুনিক স্পিড মনিটরিং এবং কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দুর্ঘটনা কমানো কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পটিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই বলছেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্তের কথা বলা হলেও বাস্তবে বদলায় না কিছুই।

সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত ছয় লেনে উন্নীতকরণ, আলাদা মোটরসাইকেল লেন, স্পিড ক্যামেরা, ফুটওভার ব্রিজ ও চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করলে এই মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত