ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে নতুন পে-স্কেল, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ছে

২০২৬ মে ২০ ১১:২০:৫৬

তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে নতুন পে-স্কেল, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর না করে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল তিন অর্থবছরে শতভাগ কার্যকর করা হতে পারে, যাতে সরকারের ওপর একসঙ্গে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। এ ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বর্তমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে আবারও একই হারে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ প্রথম দুই ধাপে মূল বেতনের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন হবে।

তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত সুবিধা, ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে না। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা তৃতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে পারে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পুনর্গঠিত কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে-স্কেল কার্যকর শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ বিবেচনায় নিয়েই নতুন এই বেতন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। তবে একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর করলে সরকারের রাজস্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ তৈরি হতে পারে। সে কারণেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।

কমিটির আলোচনায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের ওপর। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও বড় সুখবর আসতে পারে। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব পেনশনভোগী মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন প্রায় শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি মাথায় রেখে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত ও কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত