ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশের জন্য সতর্কবার্তা

২০২৬ মে ০৫ ১৭:৫৭:১৯

দেশের জন্য সতর্কবার্তা

বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে, আর বছরের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে মে মাসকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বছরে মোট বজ্রপাতের প্রায় ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ থেকে মে মাসে, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘটে আরও ৫১ শতাংশ। তবে মে মাসের বজ্রপাতগুলো তুলনামূলক বেশি তীব্র ও প্রাণঘাতী হওয়ায় এ সময়টিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হচ্ছে।

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বজ্রপাত প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে ব্র্যাক এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেখানে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বজ্রপাতের ওপর।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে কৃষকদের মধ্যে। এরপর ঝুঁকিতে থাকেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও নারীরা। মাঠে কাজ করার সময় বা খোলা জায়গায় অবস্থানের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া মৃত্যুহার কমানো সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সতর্কবার্তা দিলেই হবে না—মানুষকে জানতে হবে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয়। বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই দ্রুত ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া, উঁচু গাছ, খোলা মাঠ বা পানির কাছ থেকে দূরে থাকা জরুরি। বজ্রপাতের সময় মোবাইল বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, এখন প্রযুক্তিগতভাবে পাঁচ দিনের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হলেও মাঠপর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই আগাম সতর্কবার্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং জনগণের সচেতনতা—এই তিনটির সমন্বয় ঘটাতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

সবশেষে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে প্রাণহানি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তাই এখনই সচেতন হওয়ার সময়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত