ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বজ্রপাত নিয়ে জরুরি ১০ তথ্য, না জানলে বাড়ছে ঝুঁকি

২০২৬ এপ্রিল ৩০ ২০:০১:৩১

বজ্রপাত নিয়ে জরুরি ১০ তথ্য, না জানলে বাড়ছে ঝুঁকি

বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে বজ্রপাতের ঘটনা এবং এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে একাধিক মৃত্যুর খবর সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বজ্রপাত মূলত একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক ঘটনা, যা মেঘের মধ্যে বা মেঘ ও ভূমির মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের বিনিময়ের ফলে ঘটে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি মিনিটে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার বজ্রপাত হয়। এই সময় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বাংলাদেশে ২০১৬ সালে ব্যাপক প্রাণহানির পর বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-এর পক্ষ থেকে। তারপরও প্রতি বছর শত শত মানুষ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারাচ্ছেন।

বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন খোলা জায়গায় থাকা মানুষ। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ভুক্তভোগীই মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাই বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

অনেকে মনে করেন, একই জায়গায় বারবার বজ্রপাত হয় না—কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। বাস্তবে একই স্থানে একাধিকবার বজ্রপাত হতে পারে। বিশেষ করে উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা খোলা মাঠ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

বজ্রপাতে আক্রান্ত হলে শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। তবে তাৎক্ষণিক কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস বা প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

সমাজে বজ্রপাত নিয়ে কিছু কুসংস্কারও রয়েছে, যেমন বজ্রপাতে মৃতদেহ চুম্বক হয়ে যায়—এ ধরনের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। বজ্রঝড়ের সময় ঘরের ভেতরে থাকা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকা, খোলা মাঠ বা পানিতে না থাকা—এসব বিষয় জীবন বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ভৌগলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ছে। বঙ্গোপসাগরের আর্দ্রতা এবং উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাসের সংমিশ্রণে বজ্রঝড়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে বড় উপায়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ