ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৫:১৮:৫৬

প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি, যেখানে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন :স্কুল ছুটির পর টয়লেটে আটকা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী, অত;পর...

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে ভুগছে দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ঘাটতি পূরণে বড় পরিসরে নিয়োগ প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ চলছে। এসব পদ পূরণ হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর: এবার এক লাফে মূল বেতনের দ্বিগুণ হচ্ছে...

তিনি আরও জানান, শিক্ষক সংকট সাময়িকভাবে মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘পুল’ তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে তাদের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে করে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হবে না।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও রয়েছে সরকারের পরিকল্পনা। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পাবলিক পরীক্ষার কারণে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত না হয়।

শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহারেও জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণ করা যায়। শিক্ষামন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার স্কুলগুলো মনিটরিং করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : এসএসসি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ, মানতে হবে যেসব নিয়ম

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নকলের ধরন বদলে গেছে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে নকলের প্রবণতা বাড়ছে। তাই মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করলেই এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়নে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত