ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সরকারের নতুন বার্তা

২০২৬ মার্চ ১১ ১৫:২৬:১৪

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সরকারের নতুন বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশ জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি গ্রহণ করছে।

এদিকে বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে সরকার জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে, South Korea সরকার প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা (Price Cap) নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট Lee Jae-myung বলেছেন, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে জনগণ ও শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি

সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বাস্তবে কিছু জায়গায় তেল সংগ্রহে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

এই পরিস্থিতিতে অনিয়ম রোধ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে পাম্পগুলোর মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।

কিছু পাম্পে তেল শেষ

রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেলের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন তেলবাহী ট্রাক পৌঁছালে দ্রুত সরবরাহ আবার চালু করা হবে।

একটি ফিলিং স্টেশনে তেলের পরিমাপে কিছু অসংগতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঈদের আগে দাম বাড়বে কি?

সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী Sheikh Robiul Alam জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না এবং ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বাসসহ সব পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি

দীর্ঘমেয়াদি সংকট এড়াতে Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) দেশে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু করেছে। নির্দিষ্ট যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল নির্ধারণ করা হয়েছে।

তেলের নির্ধারিত পরিমাণ:

মোটরসাইকেল: দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার

ব্যক্তিগত গাড়ি: ১০ লিটার

এসইউভি ও মাইক্রোবাস: ২০–২৫ লিটার

পিকআপ বা লোকাল বাস: ৭০–৮০ লিটার ডিজেল

দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক: ২০০–২২০ লিটার

তেল কেনার সময় গ্রাহকদের রসিদ নিতে হবে, এবং পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় সেই রসিদ দেখাতে হবে।

সরকারের আশ্বাস

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud Tuku জানিয়েছেন, নতুন তেলবাহী জাহাজ দেশে আসছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তার মতে, রেশনিং ব্যবস্থা মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, কিন্তু বাস্তবে দেশে তেলের ঘাটতি নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা চলতে থাকলে জ্বালানি খাতে চাপ বাড়তে পারে। তবে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নজরদারি জোরদার করেছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত