ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশে কি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে? স্পষ্ট বার্তা দিল সরকার

২০২৬ মার্চ ০৬ ২৩:৫৩:০২

দেশে কি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে? স্পষ্ট বার্তা দিল সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—দেশে কি জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে? এ বিষয়ে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন শেষে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এখনই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে ঠিকই, তবে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ে। তিনি বলেন,“আমাদের চেষ্টা থাকবে দেশের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না দেওয়ার। তবে পরিস্থিতি যদি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন জনগণের সঙ্গে বিষয়টি খোলামেলা আলোচনা করা হবে।”

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি তেল না কেনারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু

জ্বালানি তেলের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।

কোন গাড়ি কত তেল পাবে

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি তেল দেওয়া হবে। যেমন—

মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন

ব্যক্তিগত গাড়ি: সর্বোচ্চ ১০ লিটার

জিপ বা এসইউভি এবং মাইক্রোবাস: ২০ থেকে ২৫ লিটার

পিকআপ ও লোকাল বাস: ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল

দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান: ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত মজুদ বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।

কেন এই সিদ্ধান্ত

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিয়ে নানা ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনতে শুরু করেছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হচ্ছে।

সরকার বলছে, আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত