ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাজারে হঠাৎ সয়াবিন তেলের লিটার কত হলো জানেন?

২০২৬ মার্চ ০৬ ২৩:৪২:৪৮

বাজারে হঠাৎ সয়াবিন তেলের লিটার কত হলো জানেন?

পবিত্র রমজানের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, ব্রয়লার মুরগি ও চিনির দাম হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে। বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলার পর্যায়ে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে এবং সরবরাহও সীমিত করা হয়েছে। তবে অনেক জায়গায় এখনো আগের দামে বোতলজাত তেল বিক্রি হলেও বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় পৌঁছেছে, যা কয়েকদিন আগেও কিছুটা কম ছিল।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে ঈদের আগে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তারা মনে করছেন, এখনই যদি সরকারের বাজার তদারকি জোরদার না করা হয়, তাহলে সামনে সাধারণ ক্রেতাদের আরও বেশি দাম গুনতে হতে পারে।

মুরগি ও চিনির দামও বাড়ছে

শুধু তেল নয়, বাজারে মুরগি ও চিনির দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় পৌঁছেছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়তে শুরু করায় এখনই দাম কমার সম্ভাবনা খুব কম।

অন্যদিকে খোলা চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দাম বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এ বছর চিনির দাম এখনো তুলনামূলক কম রয়েছে।

ডিমের বাজারে ভিন্ন চিত্র

মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের বাজারে উল্টো পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে এক ডজন সাদা ডিম ৯০ থেকে ৯৫ টাকা এবং বাদামি ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে খামারিদের দাবি, উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিমের দাম অনেক কম। ফলে অনেক খামারি লোকসানের মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার খামারিরা জানিয়েছেন, খামার পর্যায়ে ডিমের দাম আরও কম হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে আছেন।

কিছু পণ্যে স্বস্তি

সব পণ্যের দাম বাড়েনি। বাজারে চাল, মসুর ডাল ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব আমদানিনির্ভর পণ্যের বাজারে পড়ছে। একই সঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে চাহিদা বাড়তে শুরু করায় কিছু পণ্যের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

তাই ভোক্তাদের স্বার্থে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত