ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নেবুলাইজার বা ইনহেলার ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যাবে? যা বলছেন আলেমরা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১০:২৩:৪৭

নেবুলাইজার বা ইনহেলার ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যাবে? যা বলছেন আলেমরা

পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে যারা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা অ্যাজমার মতো জটিল রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—রোজা অবস্থায় নেবুলাইজার বা ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে কি না?

ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, রোজা থাকা অবস্থায় নিরেট বাতাস ছাড়া কোনো বস্তু শরীরের ভেতরে প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয়। এই নীতির আলোকে ফিকহ বিশেষজ্ঞরা নেবুলাইজার ও ইনহেলার ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত দিয়েছেন।

নেবুলাইজার ব্যবহারে রোজার বিধান

নেবুলাইজার এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে তরল ওষুধকে সূক্ষ্ম বাষ্পে পরিণত করে রোগীর ফুসফুসে পৌঁছে দেওয়া হয়। যেহেতু এতে ওষুধের কণা বাতাসের সঙ্গে মিশে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, তাই রোজা রাখা অবস্থায় এটি ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে বলে আলেমদের অভিমত।এ ক্ষেত্রে ওই দিনের রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে।

ইনহেলার ব্যবহার করলে কী হবে?

শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য ইনহেলার একটি পরিচিত ও কার্যকর পদ্ধতি। এটি স্প্রে আকারে মুখের ভেতরে প্রয়োগ করা হয় এবং দ্রুত শ্বাসনালিকে প্রসারিত করে স্বস্তি দেয়। যদিও অনেকেই এটিকে গ্যাস মনে করেন, বাস্তবে এটি তরল ওষুধের সূক্ষ্ম কণা, যা শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে।ফলে রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলেও রোজা ভঙ্গ হবে—এমন মত দিয়েছেন ফতোয়া বিশেষজ্ঞরা। তবে জীবন রক্ষার্থে বা তীব্র অসুস্থতায় ব্যবহার করলে কোনো গুনাহ হবে না; কেবল পরে কাজা আদায় করতে হবে।

কাজা ও ফিদইয়ার বিধান

যদি কোনো ব্যক্তি সাময়িক অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে না পারেন বা নেবুলাইজার/ইনহেলার ব্যবহারের কারণে রোজা ভেঙে যায়, তাহলে সুস্থ হওয়ার পর কাজা রোজা আদায় করতে হবে।আর যদি কেউ দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে ভবিষ্যতেও রোজা রাখার সক্ষমতা না রাখেন, তাহলে প্রতিটি রোজার জন্য ফিদইয়া দিতে হবে। ফিদইয়ার পরিমাণ সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ খাদ্য (প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গম) বা তার বাজারমূল্য। প্রতিদিনের জন্য আলাদাভাবে একজন দরিদ্রকে তা প্রদান করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

শ্বাসকষ্টের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাহরির শেষ সময়ে বা ইফতারের পর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন, যাতে দিনের বেলায় ইনহেলারের প্রয়োজন কমে। তবে জরুরি অবস্থায় জীবন রক্ষাই সর্বাগ্রে—ইসলাম এ ক্ষেত্রেও সহজ বিধান দিয়েছে।

রমজানে ইবাদতের পাশাপাশি সুস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ধর্মীয় বিধান ও চিকিৎসা—দুটো দিক বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ