ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

আজ হঠাৎ ভোজ্যতেল ও চিনির মূল্যবৃদ্ধি: ভোক্তাদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৬:১৪:০৭

আজ হঠাৎ ভোজ্যতেল ও চিনির মূল্যবৃদ্ধি: ভোক্তাদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ—দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজারে আবারও বেড়ে গেছে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম। রমজানকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহেই ভোজ্যতেলের প্রতি মণে ৬০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং চিনির প্রতি কেজিতে অন্তত ৫ টাকা বাড়তি দাম লক্ষ্য করা গেছে।

পর্যাপ্ত আমদানি, তবুও কেন বাড়ছে দাম?চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়—

গত সাড়ে সাত মাসে দেশে ১৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে।

প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন চিনি এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে।

এ পরিমাণ আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ—চাহিদার তুলনায় আমদানি যথেষ্ট বেশি।

কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানান, “যথেষ্ট আমদানি হয়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”

খাতুনগঞ্জে দামের বর্তমান চিত্রপাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান—

পাম অয়েল: প্রতি মণে ৫০–৬০ টাকা বৃদ্ধি

সুপার তেল: প্রতি মণে ৬০ টাকা বৃদ্ধি

সয়াবিন তেল: প্রতি মণে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি

চিনি: সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আহমেদ সবুজ বলেন, “হঠাৎ করে দাম কিছুটা বেড়েছে। আগের দামের তুলনায় মণে ৪০–৫০ টাকা বেশি লেগে যাচ্ছে।”

ব্যবসায়ীদের অজুহাত ও কর্তৃপক্ষের মন্তব্যকিছু ব্যবসায়ী দাবি করছেন—বাজারে কোনো কারসাজি নেই। খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর আবদুস সালাম বলেন, “খুচরা বাজারের মূল্যবৃদ্ধি মনিটর করা প্রশাসনের কাজ।”

ভোক্তা অধিকার সংগঠন CAB-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন অবশ্য বিপরীত মত দেন। তিনি বলেন—“রমজানের আগমুহূর্তে কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।”

রমজানের চাহিদা কত?বাংলাদেশে বছরে

২০–২২ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল,

১৮–২০ লাখ মেট্রিক টন চিনি প্রয়োজন হয়।

শুধু রমজান মাসেই প্রয়োজন হয়—

৩ লাখ টন তেল,

২.৫ লাখ টন চিনি।

এখন পর্যন্ত এলসি খোলায় সমস্যা না থাকায় এসব পণ্য আগেই আমদানি হয়ে গেছে।

ভাসমান গুদামের অভিযোগকর্ণফুলী নদীতে লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়েছে। এ ধরনের পদ্ধতি বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

সারসংক্ষেপপর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও বাজারে অস্থিরতা স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—যদি প্রশাসন সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ায়, পাইকারি ও খুচরা দামের অস্বাভাবিক ব্যবধান দ্রুত কমে আসবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত