ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোজা রেখে হঠাৎ ঝাপসা দেখছেন, চোখ দিচ্ছে বিপদের সংকেত

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৯:০৮:৩৭

রোজা রেখে হঠাৎ ঝাপসা দেখছেন, চোখ দিচ্ছে বিপদের সংকেত

রমজান এলেই দৈনন্দিন জীবনের ছন্দে পরিবর্তন আসে। ভোরে সাহরি, সারা দিন রোজা, সন্ধ্যায় ইফতার ও রাতে তারাবির কারণে খাদ্যাভ্যাস, পানীয় গ্রহণ ও ঘুমের সময়সূচিতে বড় রদবদল হয়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে শরীর ধীরে ধীরে মানিয়ে নিলেও চোখের ওপর এর প্রভাব অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজার সময় বিকেলের দিকে ঝাপসা দেখা, চোখে খসখসে ভাব, চাপ অনুভব করা কিংবা দৃষ্টিশক্তির সাময়িক ওঠানামা—এসব বেশ সাধারণ উপসর্গ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো সাময়িক হলেও সতর্ক থাকা জরুরি।

পানিশূন্যতা ও ঝাপসা দেখা

মেডকেয়ার আই সেন্টারের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নন্দিনী সংকর নারায়ণের মতে, দীর্ঘ সময় পানি না পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এতে চোখের টিয়ার ফিল্ম বা প্রাকৃতিক অশ্রুস্তর কমে যায়। ফলে চোখ ভারী লাগে, শুষ্কতা বাড়ে এবং সাময়িক ঝাপসা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে বিকেলের দিকে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে।

রক্তে শর্করার ওঠানামা

রোজার সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে চোখে প্রভাব পড়তে পারে। রক্তে শর্করা ৭০ মি.গ্রা./ডেসিলিটারের নিচে নেমে গেলে ঝাপসা দেখা, চোখের সামনে কালো দাগ ভাসা বা আলো কম মনে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এবং ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি গ্রহণ রক্তনালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রয়েছে।

কেন বেশি ক্লান্ত লাগে চোখ?

রমজানে ঘুমের সময় কমে যায়, স্ক্রিনে সময় বাড়ে এবং অনেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকেন। এতে চোখের পলক ফেলা কমে যায় এবং শুষ্কতা বাড়ে। ফলাফল—জ্বালা, খসখসে ভাব, মাথাব্যথা ও দৃষ্টির ওঠানামা।

কর্নিয়া ও ড্রাই আই সমস্যা

চোখের স্বচ্ছ বাইরের স্তর কর্নিয়া পানিশূন্যতায় দ্রুত প্রভাবিত হয়। শুষ্ক আবহাওয়ায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। বিশেষজ্ঞরা ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনে প্রিজারভেটিভ-মুক্ত কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

গ্লকোমা রোগীদের জন্য সতর্কতা

গ্লকোমা রোগকে বলা হয় ‘নীরব দৃষ্টিচোর’। এ রোগে নিয়মিত চোখের ড্রপ ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানান, চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে রোজা ভাঙে না। তবে ডোজ বাদ গেলে চোখের ভেতরের চাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা বিপজ্জনক।

ড্রপ ব্যবহারের পর চোখের ভেতরের কোণে হালকা চাপ দিলে ওষুধ ভালোভাবে কাজ করে।

যেসব লক্ষণে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাবেন

হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া

চোখের সামনে ভাসমান দাগ (ফ্লোটার)

পর্দার মতো ছায়া নেমে আসা

তীব্র ব্যথা

আলো সহ্য না হওয়া

সামান্য শুষ্কতা বা ঝাপসা দেখা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে রমজান বা ঈদের পর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

রমজানে সুস্থ থাকতে যেমন খাদ্য ও ঘুমের দিকে নজর দিতে হয়, তেমনি চোখের যত্নেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যথেষ্ট পানি পান, সুষম খাবার ও নিয়মিত চিকিৎসা—এই তিনেই সুরক্ষিত থাকবে আপনার দৃষ্টি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ

২০মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE

২০মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ... বিস্তারিত