ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

একলাফে কমে গেলো সোনার দাম

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৯:৪৭:২১

একলাফে কমে গেলো সোনার দাম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎই দেখা দিয়েছে পতন। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের এই মূল্যহ্রাসের পেছনে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ—ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিশ্বের বড় বড় বাজারগুলোতে ছুটি থাকায় লেনদেন কমে যাওয়া।

স্পট গোল্ডের মূল্য সোমবার কমেছে প্রায় ০.৭ শতাংশ, নেমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৭.৭ ডলারে। দিনের শুরুর দিকে এই পতন ছিল আরও বেশি। ছুটির কারণে লেনদেন সীমিত থাকায় বাজারে তারল্য বা লিকুইডিটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

আজ যুক্তরাষ্ট্রে Presidents Day ছুটি থাকায় মার্কেট কার্যক্রম কম ছিল। একই সঙ্গে চীনসহ বিভিন্ন এশীয় দেশে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে বাজার বন্ধ থাকায় স্বর্ণের বেচাকেনা স্বাভাবিক ছিল না। কম লেনদেনের এই পরিস্থিতি স্বর্ণের দামকে চাপের মুখে ফেলে।

প্রখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক UBS–এর বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো জানিয়েছেন, ছুটি ও সীমিত লেনদেন স্বর্ণের দামে সাময়িক চাপ সৃষ্টি করছে। তাই দাম আপাতত ৫ হাজার ডলারের আশপাশেই ঘোরাফেরা করছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী থাকায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহাকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম বাড়লেও চাকরির বাজারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, Federal Reserve আগামী ১৮ মার্চ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে স্থিতিশীল রাখবে। সাধারণত সুদের হার কমলে স্বর্ণের মতো অব্যবহারযোগ্য সম্পদের দাম বাড়ে, আর সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমে যায়—ফলে দামও পড়ে।

সব মিলিয়ে, ছুটির কম লেনদেন ও শক্তিশালী ডলার—এই দুইয়ের প্রভাবেই স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে নিম্নমুখী।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত