ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ডায়রিয়া থেকে দ্রুত মুক্তির ৭টি কার্যকর ঘরোয়া উপায়

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৭:৩০:০৪

ডায়রিয়া থেকে দ্রুত মুক্তির ৭টি কার্যকর ঘরোয়া উপায়

হঠাৎ শুরু হওয়া ডায়রিয়া জীবনের ছন্দপতনে বাধা দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি সমস্যা মৃদু হয় এবং ২৪ ঘণ্টার কম সময় স্থায়ী হয়, তবে সাধারণত এটি স্বাভাবিকভাবেই চলে যায়। দ্রুত আরাম পেতে বাজারে ‘ইমোডিয়াম’ বা ‘পেপ্টো-বিসমল’-এর মতো ওষুধ পাওয়া যায়, যা অন্ত্রের গতিবিধি ধীর করে। তবে যেকোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরোয়া কিছু উপাদান ব্যবহার করে ডায়রিয়া সামাল দেওয়া সম্ভব। এখানে সাতটি কার্যকর উপায় উল্লেখ করা হলো:

১. তরল খাবার ও পানিশূন্যতা রোধ:অস্বাভাবিক মলত্যাগের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। শুধু পানি খাওয়া যথেষ্ট নয়, বরং চা, আপেলের জুস বা ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা উচিত।

২. ভাতের ফ্যান বা মাড়ের ব্যবহার:এক কাপ চাল ও দুই কাপ পানির মিশ্রণে তৈরি ভাতের মাড় পানিশূন্যতা কমাতে এবং মলের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম:শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সময় দিন। পেট ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে হালকা গরম সেঁক বা উষ্ণ কম্প্রেস ব্যবহার করুন। পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ আরোগ্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

৪. খাবারে সতর্কতা:ডায়রিয়া চলাকালীন দুধ, পনির, কফি বা ওটমিল এড়ানো ভালো। সাধারণ সেদ্ধ ভাত বা আলুর মতো শর্করা জাতীয় খাবার বেছে নিন। এছাড়া ব্লুবেরিতে থাকা ‘অ্যান্থোসায়ানোসাইড’ উপাদান অন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সমস্যা উপশমে কার্যকর।

৫. প্রাচীন প্রতিকার – পেয়ারা পাতা:পেয়ারা পাতা ডায়রিয়ার প্রাচীন ঘরোয়া প্রতিকার। এতে থাকা ‘ট্যানিন’ উপাদান অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন, যা অন্ত্রের অতিরিক্ত নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে।

৬. প্রোবায়োটিকস:পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে দই বা প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। এটি হজম প্রক্রিয়া সচল করে এবং ডায়রিয়ার সময় অন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখে।

৭. শুকনো আদা:ফুড পয়জনিং বা বমি ভাবের কারণে ডায়রিয়া হলে শুকনো আদা সাহায্য করে। চিবিয়ে খাওয়া বা গরম পানিতে ভিজিয়ে পানি পান করা হজম শক্তি বাড়ায় এবং পেটের অস্বস্তি কমায়।

সতর্কবার্তা:ঘরোয়া উপায়গুলো মূলত প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। যদি ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয় বা রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে, তবে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ