ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভোট দিতে গিয়ে ভুল করলে বাতিল হতে পারে ব্যালট, সতর্কবার্তা ইসির

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৯:৩০:১৫

ভোট দিতে গিয়ে ভুল করলে বাতিল হতে পারে ব্যালট, সতর্কবার্তা ইসির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এবার ভোটারদের দিতে হবে দুটি ভোট—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটে। নির্বাচনী ব্যালটে রাজনৈতিক দলের প্রতীক থাকলেও গণভোটের ব্যালটে থাকবে দুটি অপশন—‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। ভোটাররা সিলের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।

ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ও সময়সূচি

ভোটারদের সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। তবে বিকেল ৪টার আগে লাইনে দাঁড়ালে সময় শেষ হলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

কেন্দ্রে যা নেওয়া যাবে

ভোটকেন্দ্রে পার্স ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ নেওয়া যাবে না। মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা যাবে এবং কেন্দ্রের বাইরে বা সাধারণ স্থানে ছবি তোলাও সম্ভব। তবে গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেসে) মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

যে কোনো ধরনের পোশাক পরে ভোট দিতে যাওয়া যাবে। তবে কেউ নেকাব পরিধান করলে পোলিং এজেন্টের অনুরোধে পরিচয় নিশ্চিত করতে একবারের জন্য তা খুলতে হতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক নয়, তবে থাকলে পরিচয় যাচাই সহজ হবে।

যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

কোনো ধরনের অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ বা বিপজ্জনক সামগ্রী নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। ভোট প্রদান শেষে কেন্দ্রে অযথা অবস্থান করাও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া

ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে পোলিং অফিসার আঙুলে অমোচনীয় কালি দেবেন। এরপর প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার দুটি ব্যালট পেপার প্রদান করবেন—একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য।

ভোট দেওয়ার আগে ব্যালট পেপারের পেছনে অফিসিয়াল সিল ও প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না তা দেখে নেওয়া জরুরি। নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প স্পষ্টভাবে দিতে হবে।

গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—যেটি পছন্দ, সেটিতে সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে, যাতে কালি অন্য প্রতীকে না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বি ভাঁজ করাই নিরাপদ। এরপর নির্ধারিত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট ফেলতে হবে। ভোট দেওয়া শেষ হলে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন ভোটারদের সঠিকভাবে ভোট প্রদান এবং ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত