ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

এইমাত্র পাওয়া : হঠাৎ পাল্টে গেলো তেলের দাম

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৯:০২:২৯

এইমাত্র পাওয়া : হঠাৎ পাল্টে গেলো তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও দোলাচলে তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানে সামরিক হামলায় যাচ্ছে না—এই খবরে বৃহস্পতিবার দাম কিছুটা কমলেও, তিন দিনের সাপ্তাহিক ছুটিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগাম ক্রয়ের কারণে শুক্রবার ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের বাজার।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মার্টিন লুথার কিং দিবস উপলক্ষে টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঘাটতির ঝুঁকি এড়াতে অনেক ক্রেতা আগেভাগেই তেল কিনতে শুরু করেছেন, ফলে দাম আবার বাড়তির দিকে যায়।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ ডলার ১৩ সেন্টে। একই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৫৯ ডলার ৪৪ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক হামলার আশঙ্কা কমেছে, তবু পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কা বাজারকে সতর্ক করে রেখেছে। এই প্রণালি দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় শুরু হয়নি। ফলে বাজারে স্বস্তির বদলে অনিশ্চয়তাই বেশি কাজ করছে। প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের বিশ্লেষকেরা বলছেন, ছুটির দিনে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এই আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী আগেভাগেই তেল মজুত করছেন।

তবে দীর্ঘমেয়াদে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি মন্থর, বিশেষ করে চীনের তেল চাহিদা আশানুরূপ বাড়ছে না। বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় কোনো যুদ্ধ বা সরবরাহ সংকট না হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫৭ থেকে ৬৭ ডলারের মধ্যেই ওঠানামা করবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, তেলের বাজার এখন ভূরাজনীতি ও সরবরাহ-চাহিদার টানাপোড়েনে রয়েছে। সাময়িক উত্তেজনায় দাম বাড়ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের মূল্যলাফের সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত