ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দিনে ৩০ গ্রাম ফাইবার খেলেই শরীরে যে পরিবর্তন আসে জানলে অবাক হবেন

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৯:৪২:২৫

দিনে ৩০ গ্রাম ফাইবার খেলেই শরীরে যে পরিবর্তন আসে জানলে অবাক হবেন

এক সময় শক্তি ও ফিটনেসের আলোচনায় প্রোটিনই ছিল সবার শীর্ষে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের আলোচনায় নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে ফাইবার। পুষ্টিবিদদের মতে, এই প্রবণতা শুধু ট্রেন্ড নয়—স্বাস্থ্য সচেতনতার একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।

গবেষণা বলছে, সুপারিশকৃত দৈনিক ফাইবারের পরিমাণ পূরণ করতে পারছেন মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা প্রয়োজন হলেও বাস্তবে যুক্তরাজ্যে গড় গ্রহণ মাত্র ১৬ থেকে ১৭ গ্রাম। নারীরা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় আরও কম ফাইবার খান।

কেন হঠাৎ ফাইবার নিয়ে এত আলোচনা?

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওটস বা পোরিজের ওপর চিয়া সিড ছিটানো ভিডিও, কিংবা রাজমা, ছোলা ও ডালের উপকারিতা নিয়ে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ চোখে পড়ছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত এই পুষ্টি উপাদানটি এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবারকে এত দিন শুধু হজমের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও এর প্রভাব শরীরের অনেক গভীর স্তরে কাজ করে। যাদের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বেশি থাকে, তাদের হৃদরোগ, টাইপ–২ ডায়াবেটিস ও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

ফাইবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক

গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে মস্তিষ্কের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, যাকে বলা হয় গাট–ব্রেন অ্যাক্সিস। ফারমেন্টেবল ফাইবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যা উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বার্মিংহামের ২৪ বছর বয়সী ইয়েশে স্যান্ডার জানান, প্রতিদিন ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক ভালো অনুভব করছেন। তার ভাষায়, “ফাইবার বাড়ানোর পর ক্লান্তি কমেছে, মনও অনেক হালকা থাকে।”

ফাইবার কী?

ফাইবার হলো উদ্ভিদজাত এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা শরীর পুরোপুরি হজম করতে পারে না। এটি পাওয়া যায় ফল, সবজি, ডাল, শস্য, বাদাম ও বীজে।

দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

অদ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে

ফাইবার বাড়ালে কী পরিবর্তন আসে

২৫ বছর বয়সী ভিকি ওউনস জানান, খাদ্যাভ্যাসে ফাইবার বাড়ানোর পর তার ত্বক ভালো হয়েছে এবং শক্তি বেড়েছে। আগে যেখানে প্রসেসড খাবার ছিল প্রধান, এখন সেখানে জায়গা নিয়েছে ফল, সবজি ও পূর্ণ শস্য।

কীভাবে সহজে ফাইবার বাড়াবেন

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—

সাদা পাউরুটির বদলে পূর্ণ শস্যের পাউরুটি

চিপস ও চকলেটের বদলে ফল বা বাদাম

দই বা ওটসের সঙ্গে ফল ও বীজ

সাদা ভাতের বদলে বাদামি বা হোল গ্রেইন ভাত

স্যান্ডউইচে সালাদ, হুমাস বা অ্যাভোকাডো যোগ করা

সুস্থ জীবনের পথে এক ধাপ

প্রোটিনের পর এবার ফাইবার নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য আশাব্যঞ্জক। সামান্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই ফাইবার গ্রহণ বাড়ানো সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন—দুটোর জন্যই উপকারী।

স্বাস্থ্যকর এই ট্রেন্ড যদি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা হতে পারে সুস্থ জীবনের পথে একটি বড় অগ্রগতি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ