ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পুরুষদের এই ভুল অবহেলাই ডেকে আনে ভয়ংকর ক্যান্সার

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১০:১৯:২৪

পুরুষদের এই ভুল অবহেলাই ডেকে আনে ভয়ংকর ক্যান্সার

পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যান্সার একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যান্সারের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। কোনো ধরনের অসুবিধা ছাড়াই রোগটি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা সামান্য সন্দেহ হলেই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

প্রস্টেট ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, প্রস্রাবের চাপ সামলাতে না পারা, প্রস্রাব শুরু করতে বা বন্ধ করতে সমস্যা হওয়া। অনেক সময় প্রস্রাব শেষ হলেও মনে হয় পুরোপুরি শেষ হয়নি। বেশিরভাগ পুরুষ এসব সমস্যাকে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে ধরে নেন, তবে এগুলো প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেতও হতে পারে।

মূত্র বা শুক্রাণুর সঙ্গে রক্ত দেখা দেওয়া আরেকটি গুরুতর লক্ষণ। অনেকেই একে সাময়িক সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করেন, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে এটি ক্যান্সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রস্টেট ক্যান্সার, প্রস্টেট বৃদ্ধি ও ইউরিন ইনফেকশনের কিছু লক্ষণ প্রায় একই রকম হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে ইনফেকশনের ক্ষেত্রে জ্বালা, জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব দেখা যায়। অন্যদিকে, প্রস্টেট ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ এমনও রয়েছে, যা সহজে চোখে পড়ে না। যেমন—কোমর বা নিতম্বে দীর্ঘদিনের ব্যথা, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া বা সব সময় ক্লান্তি অনুভব করা। সাধারণত এসব লক্ষণ দেখা দেয় যখন রোগটি শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রস্টেট ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বয়স বৃদ্ধি, জিনগত ইতিহাস ও হরমোনের পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের ৫০ বছর বয়সের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, এমনকি কোনো উপসর্গ না থাকলেও। আর পরিবারের কারও ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে আরও আগে থেকেই পরীক্ষা শুরু করা উচিত। সময়মতো পরীক্ষা ও সচেতনতা প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ