ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারি চাকরিজীবীদের কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ছে?

২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৫:৩৮:০৭

সরকারি চাকরিজীবীদের কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ছে?

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল আপাতত আর ঘোষণা করা হচ্ছে না। দেশের বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে বিকল্প হিসেবে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই ভাতাই বহাল থাকবে।

কেন পিছিয়ে গেল নতুন পে স্কেল?

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও বাজেট ঘাটতির কারণে এখনই নতুন পে স্কেল কার্যকর করা সরকারের জন্য কঠিন। এর পাশাপাশি ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না অন্তর্বর্তী সরকার।

তবে পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। কমিশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদন বর্তমান সরকারের কাছে জমা দিয়ে নির্বাচনের পর নতুন সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্পষ্ট করে বলেছেন,“নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই।”অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও জানিয়েছেন, কমিশনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

কোন গ্রেডে কত শতাংশ মহার্ঘ ভাতা?

আলোচনার ভিত্তিতে যে প্রস্তাব চূড়ান্তের পথে—

১ম থেকে ৯ম গ্রেড: মূল বেতনের ১৫%

১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: মূল বেতনের ২০%

সব ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এই মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হতে পারে।

কেন মহার্ঘ ভাতা জরুরি?

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা পাচ্ছেন ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের বেতন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল হলেও গত প্রায় ৯ বছরে তা হয়নি। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে গেছেন।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ২০২৩ সাল থেকে ৫% বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন চাকরিজীবীরা। সেই প্রেক্ষাপটেই মহার্ঘ ভাতা এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেতন কমিশনের সর্বশেষ অবস্থা

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নবম পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত