ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ০৮:৪১:৪৩

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সংকট আরও তীব্র আকার নিতে যাচ্ছে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড ঘোষণা দিয়েছে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। এর ফলে ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে রান্নার গ্যাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক নোটিশে ব্যবসায়ী সমিতি জানায়, সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে।

সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান বলেন,

“বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে আমাদের বৈঠক রয়েছে। সেখানে দাবি মানা হলে সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে, অন্যথায় বিক্রি বন্ধ থাকবে।”

এলপিজি সংকট ও ব্যবসায়ীদের দাবি

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির দাবি, বর্তমানে দেশে এলপিজি খাতে চরম অস্থিরতা চলছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারে রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে নিয়মিত গ্যাস রিফিল হচ্ছে। ফলে প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে, যা পরিবেশকদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী—

পরিবেশক কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করতে হবে

খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে

প্রশাসনিক হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে

পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মূল্য সমন্বয় বন্ধ করতে হবে

তাদের অভিযোগ, অধিকাংশ এলপিজি কোম্পানি কার্যত বন্ধ থাকায় পরিবেশকরা দেউলিয়া হওয়ার পথে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার অভিযান ও জরিমানার কারণে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিইআরসি ও সরকারের অবস্থান

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন,

“এলপিজি পরিবেশকরা আমাদের লাইসেন্সধারী নয়। তাই আইনগতভাবে তাদের দাবি সরাসরি গ্রহণ করার সুযোগ নেই। প্রস্তাব আসতে হবে লাইসেন্সধারী আমদানিকারকদের কাছ থেকে। যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী,

“বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কারসাজির ফল।”

তিনি জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একযোগে কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে জরিমানাও করা হচ্ছে।

অনিশ্চয়তায় ভোক্তারা

সব মিলিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সরকারের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে এলপিজি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। বৈঠকের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে এলপিজি সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত