ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কোন বছর এবং কত

২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১২:৫৬:২৩

দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কোন বছর এবং কত

নিজস্ব প্রতিবেদক : শীতের তীব্রতায় কাঁপছে দেশ। জানুয়ারি মাসজুড়ে ঘন কুয়াশা, সূর্যের অনুপস্থিতি আর হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে এসেছে এক অঙ্কে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন—বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা কবে এবং কত রেকর্ড হয়েছিল?

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংরক্ষিত তথ্য বলছে, চলমান শৈত্যপ্রবাহ নতুন কিছু নয়। অতীতেও বাংলাদেশ আরও ভয়াবহ শীতের মুখোমুখি হয়েছে, এমনকি তাপমাত্রা নেমেছিল তিন ডিগ্রির নিচেও।

ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সাল থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সে সময় স্টেশন সংখ্যা কম থাকলেও তথ্যগুলো এখনো নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য।

স্বাধীনতার আগের সময়ের দিকে তাকালে দেখা যায়—১৯৬৪ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চার বছর পর, ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলেই তাপমাত্রা আরও নেমে দাঁড়ায় ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা তখনকার সময়ের জন্য ছিল ভয়াবহ শীত।

স্বাধীনতার পর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

দীর্ঘদিন সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ন ছিল। তবে ঠিক ৫০ বছর পর, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ইতিহাস বদলে যায়। সেবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে আসে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে স্বীকৃত।

ওই বছরই রংপুর বিভাগের সৈয়দপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি নীলফামারীর ডিমলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট এবং দিনাজপুরে তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩.০, ৩.১ ও ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগেও তীব্র শীতের নজির রয়েছে। ২০১৩ সালে রংপুরে ৩.৫, দিনাজপুরে ৩.২ এবং সৈয়দপুরে ৩.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। ২০০৩ সালে রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমেছিল ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

কেন উত্তরাঞ্চলেই বেশি শীত পড়ে

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলই শৈত্যপ্রবাহের প্রবেশদ্বার। শীতকালে উত্তর ভারতের দিল্লি, কাশ্মীর ও হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল থেকে প্রবাহিত ঠান্ডা বাতাস পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে এগিয়ে আসে।

ভৌগোলিক কারণে সেই বাতাস প্রথমে প্রবেশ করে রাজশাহী, রংপুর ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে। হিমালয় সরাসরি বাতাস আটকে দিলেও তার পাশ দিয়ে আসা ঠান্ডা বায়ু এই অঞ্চল দিয়েই দেশে ঢোকে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা বেশি থাকায় সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না। ফলে দিনের বেলাতেও তাপমাত্রা কম থাকে। আবার বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ থাকার কারণে রাতে তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়, যা ঠান্ডা আরও বাড়িয়ে দেয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত