ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

যে ৪টি আসনে খেজুর গাছে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ১৫:৩৩:১১

যে ৪টি আসনে খেজুর গাছে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিত্র দলগুলোর সাথে আসন ভাগাভাগি ও কৌশলগত সমঝোতা চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যতম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’-কে ৪টি সংসদীয় আসন ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এসব আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকবে না; বরং জমিয়তের প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

যে ৪টি আসনে লড়াই করবে জমিয়ত:

সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি যেসব আসন ছেড়ে দিয়েছে, সেগুলোর প্রার্থী ও আসনভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

১. সিলেট-৫: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি)।

২. নীলফামারী-১: মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব)।

৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (সহসভাপতি)।

৪. নারায়ণগঞ্জ-৪: মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী (যুগ্ম মহাসচিব)।

মির্জা ফখরুলের আহ্বান: খেজুর গাছই ধানের শীষের শক্তি

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আজকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আগামী নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে লড়াই করবে। আমরা তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোটের দিন ভোটাররা যেন ‘খেজুর গাছ’ মার্কায় ভোট দিয়ে ধানের শীষকে এবং গণতন্ত্রের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেন।”

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি:

বিএনপি মহাসচিব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে এই ৪টি আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। একই সাথে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও এই চারটি আসন বাদে সারা দেশের অন্য কোনো আসনে তাদের প্রার্থী দেবে না। দলের এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ যদি স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব:

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলেম সমাজের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্বকারী দল জমিয়তকে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি তাদের নির্বাচনি জোটের অবস্থান আরও সুসংহত করল। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর মতো স্পর্শকাতর আসনগুলোতে জমিয়তের প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া একটি বড় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত