ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিএনপির প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন: বাদ পড়লেন একাধিক হেভিওয়েট, দেখেনিন তালিকা

২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ১৬:১৩:২০

বিএনপির প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন: বাদ পড়লেন একাধিক হেভিওয়েট, দেখেনিন তালিকা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে নিজেদের শক্তি ও কৌশল ঝালিয়ে নিচ্ছে বিএনপি। সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনের বিশেষ কর্মশালাটি কেবল নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে প্রার্থী বাছাইয়ের এক অদৃশ্য 'ফিল্টার'। এই কর্মশালায় ডাক পাওয়া এবং না পাওয়ার মধ্য দিয়ে ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রদবদলের কবলে যারা: চমক ও আলোচনাদলীয় সূত্র ও কর্মশালার আমন্ত্রিতদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিগত দিনে দলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতার কপাল পুড়তে পারে। ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং যশোর-৬ আসনে কাজী রওনকুল ইসলামের মতো নেতাদের এবারের কর্মশালায় দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওই সব আসনে নতুন মুখ আসার স্পষ্ট সংকেত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে চট্টগ্রাম-৪ আসনে। সেখানে কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানিয়ে এক প্রকার 'গ্রিন সিগন্যাল' দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিমের অবস্থান বেশ পাকাপোক্ত হয়েছে।

বাগেরহাট ও লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ‘একলা চলো’ নীতিনির্বাচনী সমীকরণে জোটের মিত্রদের ছাড় দেওয়ার আলোচনা থাকলেও বাগেরহাট ও লক্ষ্মীপুর জেলায় বিএনপি নিজেদের প্রার্থীদেরই প্রাধান্য দিচ্ছে।

বাগেরহাট: জেলার চারটি আসনেই দলীয় প্রার্থীদের নাম প্রায় চূড়ান্ত। তারা হলেন—কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং সোমনাথ দে।

লক্ষ্মীপুর: আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পাশাপাশি শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আশরাফ উদ্দিন নিজানকে আমন্ত্রণের মাধ্যমে এখানে শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন আপাতত নাকচ হয়ে গেল।

তারেক রহমানের কড়া বার্তা: প্রচারণা হবে ডিজিটাল ও ‘স্মার্ট’লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে কঠোর ও আধুনিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এবারের লড়াই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। তার মূল নির্দেশনাগুলো হলো:

১. জনকল্যাণমূলক কার্ডের প্রচার: ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং কৃষি কার্ডের মতো বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো প্রতিটি ভোটারের কাছে গুরুত্বের সাথে পৌঁছে দিতে হবে।২. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনা: প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একজন দক্ষ ‘সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার’ থাকতে হবে, যিনি দলের ডিজিটাল প্রচারণার দেখভাল করবেন।৩. এজেন্ট প্রশিক্ষণ: পোলিং এজেন্টদের পাহারাদারি নয়, বরং কারিগরিভাবে দক্ষ করে তোলার জন্য প্রশিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপেক্ষায় বাকি ২৮ আসনবিএনপি ইতিমধ্যে ২৭২টি আসনে তাদের সম্ভাব্য কান্ডারিদের ছক কষে ফেলেছে। অবশিষ্ট ২৮টি আসনের ভাগ্য ঝুলে আছে জোটের শরিকদের সাথে আলোচনার ওপর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এসব আসনের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

বিএনপি এখন কেবল রাজপথের আন্দোলনে নয়, বরং ব্যালটের লড়াইয়েও প্রযুক্তিনির্ভর এবং সুসংগঠিত হওয়ার পথে হাঁটছে। তারেক রহমানের এই ‘স্মার্ট কার্ড’ এবং ডিজিটাল প্রচারণা কৌশল ভোটারদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত