ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাদি হ*ত্যা*য় আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ

২০২৫ ডিসেম্বর ২০ ১১:২৩:৩২

হাদি হ*ত্যা*য় আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ

জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির লড়াকু সৈনিক এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম এসেছে কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের। এছাড়া ঘাতকদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অর্থ ও অস্ত্রের নেপথ্যে শাহীন চেয়ারম্যান:

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, হাদিকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কিলিং মিশনের সমস্ত খরচ এবং অস্ত্রের জোগান দিয়েছিলেন শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’। দীর্ঘকাল ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকা শাহীন এলাকায় ‘মাফিয়া ডন’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তি ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে গেলেও সেখান থেকেই খুনিদের নিয়ন্ত্রণ করছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে।

পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন ছাত্রলীগ নেতা হামিদ:

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হাদির ওপর হামলার পর খুনিদের ঢাকা থেকে নিরাপদ সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করেন গোপালগঞ্জ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুল হামিদ। পুলিশ বর্তমানে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও আত্মগোপনে থেকে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন।

কেন টার্গেট হলেন হাদি?

শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে তার সাহসী বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তাকে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপরই তাকে হত্যার জন্য ‘হিটলিস্ট’-এর এক নম্বরে রাখা হয়।

অ্যাপসের মাধ্যমে ‘স্লিপার সেল’ নিয়ন্ত্রণ:

ভারত থেকে পলাতক শাহীন আহমেদ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপস (যেমন হোয়াটসঅ্যাপ) ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। গোয়েন্দারা এমন কিছু খুদেবার্তা ও কল রেকর্ড উদ্ধার করেছেন, যা এই হত্যাকাণ্ডে শাহীনের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে। স্লিপার সেলের বেশ কয়েকজন সদস্য এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

তদন্তে যা বলছে পুলিশ:

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কিছু রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে। মাস্টারমাইন্ডসহ এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত