ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ক্রেতা নেই , হঠাৎ পাল্টে গেল স্বর্ণের বাজার

২০২৫ ডিসেম্বর ১৯ ০৯:১২:১৯

ক্রেতা নেই , হঠাৎ পাল্টে গেল স্বর্ণের বাজার

এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের দাম উচ্চমাত্রায় অবস্থান করায় চলতি সপ্তাহেও ফিজিক্যাল গোল্ডের চাহিদা দুর্বল ছিল। বার, কয়েন ও গহনার ক্ষেত্রে ক্রেতা কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ভারতে। দেশটিতে স্বর্ণের বেচাকেনা ধরে রাখতে ব্যবসায়ীরা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছেন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ভারতে গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রিতে সর্বোচ্চ ৪৩ ডলার পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগের সপ্তাহে এই ছাড়ের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ১৪ ডলার। উল্লিখিত দামের মধ্যে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভারতে স্বর্ণের বিক্রি কমেছে

চেন্নাইয়ের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, দীপাবলির পর থেকেই গহনার দোকানগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাবে স্থানীয় বাজারেও বিক্রি কমেছে।

গত শুক্রবার ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০০ রুপি, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এই উচ্চমূল্য সাধারণ ক্রেতাদের স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত রাখছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

চীনসহ অন্যান্য বাজারের পরিস্থিতি

চীনেও স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে। সেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিশ্ববাজারের দামের তুলনায় কখনো ৮ ডলার ছাড়ে, আবার কখনো ৪ ডলার পর্যন্ত প্রিমিয়ামে লেনদেন হয়েছে।

এমকেএস পিএএমপির বৃহত্তর চীন অঞ্চলের পরিচালক বার্নার্ড সিন জানান, রেকর্ড উচ্চ দামের কারণে অনেক ক্রেতাই আপাতত কেনাকাটা স্থগিত রেখেছেন। দাম কিছুটা কমলে চাহিদা আবার বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যান্য এশীয় বাজার

এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও স্বর্ণের লেনদেন তুলনামূলক শান্ত ছিল।

সিঙ্গাপুরে প্রতি আউন্স স্বর্ণে প্রিমিয়াম ছিল ১ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৫০ ডলার

হংকংয়ে প্রিমিয়াম ছিল ৫০ সেন্ট থেকে ২ দশমিক ৫০ ডলার

জাপানে স্বর্ণ স্পট দামের সমান অথবা সর্বোচ্চ ৫০ সেন্ট প্রিমিয়ামে লেনদেন হয়েছে

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে ফিজিক্যাল গোল্ডের চাহিদা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে সময় লাগতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত