ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

আজ হঠাৎ পেঁয়াজের কেজি দাঁড়াল কত জানেন

২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ১১:১৭:০১

আজ হঠাৎ পেঁয়াজের কেজি দাঁড়াল কত জানেন

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন পাওয়ার পর বাজারে স্বস্তি ফিরবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কয়েক দিনের সাময়িক দাম কমার পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পেঁয়াজের দর। দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে হঠাৎ করেই বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে।

সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০ টাকায়। খুচরা বাজারে এই দাম আরও বেশি, ফলে রান্নাঘরের বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার আমদানির অনুমোদন দিলেও সেটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়নি। সীমিতসংখ্যক ব্যবসায়ীকে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) দেওয়ায় বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকছে। এর সুযোগ নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র, যারা সীমান্ত পর্যায় থেকেই দাম নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের বেচাকেনা মূলত কমিশনভিত্তিক। ব্যবসায়ীরা জানান, সীমান্ত থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করছে। ফলে পাইকারি বাজারে স্থিতিশীলতা আসছে না। কয়েক দিন আগে আমদানির খবরে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছিল, কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

খাতুনগঞ্জের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, আমদানি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হলে বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আসত এবং দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে যেত। এখন সীমিতসংখ্যক গাড়ি পেঁয়াজ আসছে, যা খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দেশীয় মুড়িকাটা পেঁয়াজ পুরোপুরি বাজারে আসতে এখনও অন্তত ১০ দিন সময় লাগবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জ ছাড়াও পাহাড়তলী, চাক্তাইসহ কয়েকটি বড় পাইকারি বাজার রয়েছে। তবে এখানে কোনো স্থায়ী আমদানিকারক নেই। সবাই কমিশনের মাধ্যমে ব্যবসা করেন, যা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করছে। সীমান্তে আমদানিকারক পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে না।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে অভিযান শুরু করেছে। ভোক্তা অধিকারের এক কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পেঁয়াজ কেনাবেচার বৈধ কাগজপত্র নেই। ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা স্পষ্টতই অনিয়ম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে পেঁয়াজ ও রসুনের কোনো ঘাটতি নেই। দেশীয় ও আমদানিকৃত—দুই ধরনের পেঁয়াজই মজুত রয়েছে। তবুও দাম না কমায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আসল কারণ কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা, বাজারে কঠোর নজরদারি এবং কমিশনভিত্তিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে পেঁয়াজের বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফিরবে না।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত