ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজনীতিতে নতুন বার্তা জামায়াতের, ২০০ আসন পেলে যা করতে চান শফিকুর রহমান

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ ডিসেম্বর ০৯ ০৮:৪০:৫৩

রাজনীতিতে নতুন বার্তা জামায়াতের, ২০০ আসন পেলে যা করতে চান শফিকুর রহমান

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে তাঁদের দল একাই ২০০ আসন জিতলেও তাঁরা জাতীয় সরকার গঠনের পথে এগোবেন। গতকাল গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ইইউ প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকট, নিরাপত্তা ইস্যু, নির্বাচনি ইশতেহার ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াত আমির তাঁদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে তারা ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’ গড়তে চায়, যেখানে সব রাজনৈতিক শক্তি আলোচনার টেবিলে থাকবে।

তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছর দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, দুর্নীতি রোধ, আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখতে জাতীয় সরকারই সবচেয়ে কার্যকর হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, দেশের ভোটাররা দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত নাও থাকতে পারেন। তাই দুটি ভোট আলাদাভাবে আয়োজন করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত বলে তিনি মত দেন।

আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়সূচি যথাযথভাবেই থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি জানান, জনগণের স্বার্থে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) ভোটব্যবস্থা বাস্তবায়নে তাঁদের দল ক্ষমতায় গিয়েও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি জবাব দেন—ধর্ম তাঁদের আদর্শের অংশ, কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নয়। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল—যারা নির্বাচন এলেই ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে আনে, প্রকৃতপক্ষে তারাই ধর্মকে ব্যবহার করে।

ইইউ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিরা। জামায়াতের পক্ষ থেকে অংশ নেন মোবারক হোসাইন, প্রফেসর মোকাররম হোসেন, জুবায়ের আহমেদ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহমুদুল হাসান।

এর আগে সকালে বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ব্রুনাইয়ের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন ওসমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০২৪ সালের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রোজাইমি আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত