ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

কঠোর হুঁশিয়ারির পর ভোজ্যতেলের দাম যত হলো

মুস্তাকিম
মুস্তাকিম

জুনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ ডিসেম্বর ০৭ ১৫:৩৮:২৮

কঠোর হুঁশিয়ারির পর ভোজ্যতেলের দাম যত হলো

দেশের ভোজ্যতেল বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। সরকারি অনুমতি ছাড়াই সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে উৎপাদক কোম্পানিগুলো। এতে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল তুলছেন, আর সাধারণ ক্রেতা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠেছে—যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে ক্রেতা ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জিনজিরা, নয়াবাজার, মালিবাগ ও কাওরান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা রাখা হয়েছে, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১৮৯ টাকা। সরবরাহও স্বাভাবিক নয়; অনেক দোকানেই তেল লুকিয়ে রাখতে দেখা গেছে সম্ভাব্য অভিযানের ভয়ে।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো গত ১০ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাম সমন্বয়ের আবেদন করলেও, সরকারি পক্ষ থেকে অনুমোদন না দিয়ে তারা নিজেরাই দাম বাড়িয়ে দেয় এবং নতুন দামের মোড়ক লাগিয়ে বাজারে ছাড়ে। মন্ত্রণালয়ের হুঁশিয়ারিও তারা মানেনি। পরে সন্ধ্যায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে দাম ৯ টাকা নয়, বরং ৫ টাকা বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে সারাদিন ক্রেতারা বাড়তি দামেই তেল কিনেছেন।

খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—ডিলাররা ইচ্ছাকৃতভাবে কম তেল সরবরাহ করছে, যাতে সংকট তৈরি হয়ে বাড়তি দামের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করা যায়। তারা আরও বলেন, কোম্পানি দাম বাড়ালেও জরিমানা করা হয় আমাদের। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকা উচিত উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের ওপর।

এদিকে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই অস্থিতিশীলতাকে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। তারা জানিয়েছে—অনুমতি ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিফাইনারি বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও আইনে আছে, প্রয়োজনে তা করা হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর উভয় পক্ষই ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেছেন—ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে, না হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রমজানকে সামনে রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই শক্ত অবস্থান নিতে চায় সরকার।

অতএব, ক্রেতা—ব্যবসায়ী—সরকার—সব পক্ষের নজর এখন রোববারের বৈঠকের দিকে, যেখানে চূড়ান্ত নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত