ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি করা কি সত্যিই হারাম? ইসলামি শরীয়তে যা বলা হয়েছে

২০২৫ ডিসেম্বর ০৭ ১১:৩৬:২২

ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি করা কি সত্যিই হারাম? ইসলামি শরীয়তে যা বলা হয়েছে

মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদার মধ্যে অন্যতম হলো নিরাপদ এবং হালাল উপায়ে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করা। তবে প্রশ্ন আসে—ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সুদভিত্তিক ঋণ নিয়ে বাড়ি বানানো কি ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ? ইসলামী শরীয়াহ সুদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করেছে। আল্লাহ ব্যবসা-বাণিজ্যকে বৈধ করেছেন, তবে সুদভিত্তিক লেনদেনকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন।

সুদের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো অর্থায়ন ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি বা বেসরকারি, যে কোনো উৎসের ঋণ যদি সুদভিত্তিক হয়, তা নেওয়া জায়েজ নয়। কুরআন ও হাদিসে সুদের ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সুদের ভয়াবহতা:

আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা:

"হে মুমিনরা! সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও। না করলে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ কর।" (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭৮-২৭৯)

সুদের সাথে জড়িতদের অভিশাপ:হজরত আবু হুরায়রা (রা.) উল্লেখ করেছেন, সুদের গুনাহের স্তর অনেক, সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তর হলো আপনার মাকে বিবাহ করা। হজরত ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, লেখক ও সাক্ষী—সবার ওপর আল্লাহর অভিশাপ।

হারাম এড়িয়ে বাড়ি তৈরির ইসলামি বিকল্প:বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন থাকলেও সুদভিত্তিক ঋণ নেওয়া উচিত নয়। ইসলামি ব্যাংকিং সুদমুক্ত অর্থায়নের বিকল্প পদ্ধতি প্রদান করে। যেমন:

মুরাবাহা (লাভে বিক্রি): ব্যাংক সরাসরি সম্পত্তি ক্রয় করে আপনাকে বিক্রি করে লাভের অংশ নির্ধারণ করে।

ইজারা (ভাড়ার ভিত্তি): সম্পত্তি ভাড়া ভিত্তিতে ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান।

এই পদ্ধতিগুলো শরীয়ত-সম্মত এবং সুদমুক্ত হওয়ায় এগুলো গ্রহণযোগ্য।

জরুরি পরিস্থিতিতে সতর্কতা:যদি কোনো পরিস্থিতিতে শরীয়ত-সম্মত লোন পাওয়া সম্ভব না হয়, তবে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে মূল নীতি হলো—সুদ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলাই সর্বোত্তম।

সর্বোপরি, বাড়ি নির্মাণে যে অর্থ ব্যবহার হবে, তা হালাল উৎস থেকে আসা আবশ্যক। সুদমুক্ত বিকল্প খুঁজে নিন অথবা ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সাহায্য নিন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ