ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

পে স্কেলে ১:৪ অনুপাতে সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের

২০২৫ ডিসেম্বর ০৬ ১১:৩৯:৫৯

পে স্কেলে ১:৪ অনুপাতে সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের

স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি, আধা–সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনে কর্মরত হাজারো কর্মকর্তা–কর্মচারী বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে একত্রিত হয়েছেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানবসমুদ্র তৈরি করে তারা বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দৃঢ় দাবি জানান।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মহাসমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালের পর বেতন না বাড়ায় অনেক পরিবারই নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারী কর্মচারীরা জানান,১:৪ অনুপাতে ১২তম গ্রেডের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।

তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় তারা দেশজুড়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মো. ওয়ারেস আলী। তিনি বলেন,

“গ্রেডভিত্তিক বেতনে যে বৈষম্য চলছে, তা দূর করতে হলে দ্রুত নতুন পে-স্কেল ঘোষণার বিকল্প নেই। কর্মচারীরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে। এবার সময় এসেছে রাষ্ট্রের তরফ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার।”

বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু নাসির খান বলেন,

“এক দশকে বাজারমূল্য কয়েক গুণ বাড়লেও বেতন অপরিবর্তিত থাকা সরকারি কর্মচারীদের প্রতি চরম অবিচার। তাদের জীবনের বাস্তবতা বিবেচনায় অবিলম্বে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে হবে।”

এ ছাড়া সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জুনায়েদ সাকি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। সবাই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।

আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না, এবং প্রয়োজনে সারা দেশে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত