ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রাজধানীর ১৫ এলাকা — বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
দেশে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় ২১ নভেম্বর সকাল বেলায়। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এই কম্পনটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৫–৪০ কিলোমিটার দূরে। আকস্মিক তীব্র কম্পনে ঢাকার বহু ভবন কেঁপে ওঠে, বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আতঙ্ক।
এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর গত দুই সপ্তাহে একের পর এক অন্তত পাঁচটি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ ৪ ডিসেম্বর সকালেও ৪.১ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে।
ঢাকার প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীরে
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন—ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি শুধুই সাম্প্রতিক কম্পনে সীমাবদ্ধ নয়; রাজধানীর আশপাশের সক্রিয় ফল্ট জোনগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মধুপুর ফল্ট জোনে যদি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
যদিও ঢাকার ভেতর সরাসরি বড় ফল্টলাইন নেই, তবুও মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে মধুপুরের সক্রিয় ফল্ট চেইন যে কোনো সময় বড় কম্পন ঘটাতে পারে।
সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রাজধানীর ১৫ এলাকা
বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে ঢাকার যে ১৫টি এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে:
সবুজবাগ
কামরাঙ্গীরচর
হাজারীবাগ
কাফরুল
ইব্রাহিমপুর
কল্যাণপুর
গাবতলী
উত্তরা
সূত্রাপুর
শ্যামপুর
মানিকদী
মোহাম্মদপুর
পল্লবী
খিলগাঁও
বাড্ডা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরান ঢাকার অধিকাংশ ভবন খুব পুরোনো এবং কাঠামোগতভাবে দুর্বল; বড় কম্পনে এসব ভবন ব্যাপকভাবে ধসে পড়তে পারে। অন্যদিকে নতুন ভরাট করা অঞ্চলগুলো ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়ে মানবসৃষ্ট ঝুঁকি বেশি
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, ঢাকার চারপাশের জলাভূমি রক্ষায় নানা আন্দোলন হলেও বাস্তবে সেই এলাকাগুলোই সবচেয়ে বেশি দখল ও ভরাটের শিকার। এসব ভরাট জমির ওপর হাজার হাজার স্থাপনা গড়ে ওঠায় মাটির স্বাভাবিক স্থিতি নষ্ট হচ্ছে।
তার মতে—
“বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে সে সব এলাকায় যেখানে প্রকৃতির নিয়ম উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের জন্য ভূমিকম্পের চেয়ে মানুষের অব্যবস্থাপনাই বড় দায়ী হবে।”
ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে কী হতে পারে?
বহু ভবন ধসে পড়তে পারে
ভূপ্রকৃতি বদলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে
নতুন ভরাট করা অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হতে পারে
হতাহতের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এখনই সচেতনতা, ভবনের সঠিক মান বজায় রাখা এবং জরুরি প্রস্তুতি না নিলে রাজধানীবাসী ভবিষ্যতে বড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- একলাফে কমলো তেলের দাম, ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ ধস
- নবম পে স্কেলে বড় চমক
- ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রধানমন্ত্রীর
- আকাশচুম্বী সোনার দাম: বাংলাদেশে ভরি প্রতি নতুন রেকর্ড ছাড়ালো
- ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে যেসব বড় সুবিধা
- ব্রাজিল বনাম মিশর ম্যাচের সময়সূচি জানুন
- বাংলাদেশ-ভারত মহারণসহ ৩১ মে’র জমজমাট খেলার সূচি, রাতে আইপিএল ফাইনাল
- রিয়াদের অবস্থা খুব খারাপ
- আজ রাতে ব্রাজিল বনাম পানামা ম্যাচ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- আর্জেন্টিনা বনাম হন্ডুরাস: জেনেনিন মাচের সময়সূচি
- রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল, পানামা ম্যাচটি যেভাবে দেখবেন লাইভ
- টানা তিন দফা কমল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি নেমে এলো
- বাংলাদেশ বনাম ভারত: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- ব্যাপক চমকে শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ
- বাংলাদেশ বনাম ভারত লাইভ: প্রথমার্ধ শেষ, জানুন ফলাফল