ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিএনপি–জামায়াত দু’দলের নেতা বেলায়েতকে ঘিরে সমালোচনা

২০২৫ নভেম্বর ২৪ ১৯:৩৬:০১

বিএনপি–জামায়াত দু’দলের নেতা বেলায়েতকে ঘিরে সমালোচনা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় একইসঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ব্যক্তির নাম বেলায়েত হোসেন। তার দ্বৈত রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা ও কৌতূহল। এখন স্থানীয়দের মনে একটাই প্রশ্ন— বেলায়েত আসলে কোন দলের মানুষ?

দুই দলের পদে দায়িত্ব পালন

উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নে বেলায়েত হোসেন জামায়াতে ইসলামী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।একইসঙ্গে তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় জয়পুর গ্রামের তাহের উদ্দিনের ছেলে বেলায়েত দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত।

বিএনপির দাবি: বহুদিনের নেতা

বিএনপি সূত্র জানায়, বেলায়েত হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর অনুমোদিত কমিটিতে তিনি সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হন।

এর আগেও তিনি ওয়ার্ড কমিটির সদস্য ছিলেন।

এমনকি ১৯ জুন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে ভোটও দেন।

বেলায়েতের ব্যাখ্যা

বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, তিনি একসময় বিএনপির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ২০২১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তার ভাষায়—

“বিএনপির পদ থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেছি মৌখিকভাবে। লিখিত আবেদন করিনি বলে হয়তো এখনও নাম কাটেনি। তবে বিএনপির সাম্প্রতিক নির্বাচনে আমি ভোট দিইনি, শুধু দেখতে গিয়েছিলাম।”

জামায়াতের বক্তব্য: কৃতজ্ঞতা থেকেই যোগদান

ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাহফুজুর রহমান দাবি করেন—

বেলায়েত ২০২০ সাল থেকেই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

২০১৯ সালে বেলায়েতকে “জামায়াত–ট্যাগ” দিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে জামায়াত তার আইনি সহায়তা দেয়, কিন্তু বিএনপি পাশে দাঁড়ায়নি।

এ ঘটনার পর কৃতজ্ঞতা থেকে তিনি জামায়াতে যোগ দেন।

বিএনপির নেতাদের অবস্থান

৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া বলেন:

“বেলায়েত আমাদের নেতা ছিলেন, তবে এখন তিনি জামায়াতের পদেও আছেন শুনেছি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনও একই বক্তব্য দেন—

“দুই দলের পদে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। উপজেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মতে, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে দুই দলের পরিচয়ে থাকায় শুধু রাজনৈতিক বিভ্রান্তিই নয়, সাংগঠনিক প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত