ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভূমিকম্প আতঙ্কের মধ্যেই নতুন বিপদ! বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, জারি সতর্কতা

২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১৭:৪৬:০৮

ভূমিকম্প আতঙ্কের মধ্যেই নতুন বিপদ! বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, জারি সতর্কতা

দেশজুড়ে ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতায় যখন মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, ঠিক সেই সময় বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে আরেকটি ভয়ংকর আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি সপ্তাহেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ফলে দেশের জন্য এটি হতে পারে আরও এক বড় দুঃসংবাদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ওড়িশা টিভি’–র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট দুর্বল নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে এবং ইতোমধ্যেই তা সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এটি নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপ হয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে সিস্টেমটি দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মালাক্কা প্রণালী, দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের বাতাসের অনুকূল পরিবেশ নিম্নচাপটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। বিশেষজ্ঞ সন্দীপ পট্টনায়ক জানিয়েছেন, সমুদ্রের উত্তপ্ত জলরাশি, শীতল বাতাসের অভাব এবং শক্তিশালী বাতাসের স্রোত নিম্নচাপটির দ্রুত তীব্র হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (BWOT) জানায়, ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘সেনিয়ার’ (Seniyar)। যদি এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তবে ২৮–২৯ নভেম্বর নাগাদ মধ্য ও পশ্চিম–মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নেবে এবং সেখানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

এটি সুগঠিত হওয়ার পর দিক পরিবর্তন করে উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ১ থেকে ২ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকা–এর মধ্যবর্তী কোনো এক স্থানে আঘাত হানতে পারে। তবে এর গতিপথ ও প্রভাব সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লাগবে।

প্রাথমিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে,

২৫ নভেম্বর থেকে বাতাসের গতি ঘন্টায় ৫০–৬০ কিমি হতে পারে,

২৬ নভেম্বর ৬০–৮০ কিমি,

২৭ নভেম্বর তা আরও বেড়ে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের জলোচ্ছ্বাস বৃদ্ধি, উচ্চ বায়ুচাপ, জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ভূমিকম্পের পর ঘূর্ণিঝড়ের এই আশঙ্কা দেশের মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত