ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

পে স্কেলে বড় পরিবর্তন আসছে! ‘গ্রেড’ কমিয়ে বাড়ছে বেতন

২০২৫ নভেম্বর ০৫ ১৬:০২:৫৫

পে স্কেলে বড় পরিবর্তন আসছে! ‘গ্রেড’ কমিয়ে বাড়ছে বেতন

পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে পে কমিশন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠন তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে কমিশনের কাছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ ও গ্রেড সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র আব্দুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছি সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা এবং গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১২টি করা হোক।”

তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে পে স্কেল হয়েছে, ২০২০ সালে হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। নিয়মিত হলে ২০২০ সালে বেতন দ্বিগুণ হতো এবং ২০২৫ সালে তা ৩৩ হাজার টাকায় পৌঁছাত। তাই আমরা চাই, কর্মচারীদের আর্থিক ক্ষতি পূরণের জন্য এবার ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা করা হোক।

আব্দুল মালেক আরও জানান, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য রয়েছে ১:১০ অনুপাতে, যা কমিয়ে ১:৪ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে, তাই বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, একজন মানুষ দিনে তিন বেলা যদি শুধু ডাল-ভাত-ভর্তা খান, তবুও দৈনিক খরচ হয় প্রায় ১৫০ টাকা। ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ন্যূনতম ব্যয় ২৭ হাজার টাকা, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে ৫০ হাজার টাকাতেও চলে না।

এদিকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে জমা দেওয়া হতে পারে। তার মতে, এ প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সার্বিকভাবে নতুন প্রস্তাবের মূল দিকগুলো হলো— সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১২টি করা এবং বেতন বৈষম্য অনুপাত ১:১০ থেকে কমিয়ে ১:৪ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে এবং বেতন কাঠামোয় একটি ভারসাম্য ফিরে আসবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত