ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যে কলেজের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী মাত্র ১ জন; প্রভাষকের বেতন জানলে চমকে যাবেন

২০২৫ নভেম্বর ০৩ ১৭:০৭:৩৪

যে কলেজের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী মাত্র ১ জন; প্রভাষকের বেতন জানলে চমকে যাবেন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ বছরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন মাত্র একজন ছাত্রী — সুমনা আক্তার। পুরো ক্লাসরুমজুড়ে একাই বসে পাঠ নিচ্ছেন তিনি। ফাঁকা বেঞ্চে প্রতিদিন ক্লাস করা এখন তাঁর কাছে একাকীত্বের অভিজ্ঞতা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক শিক্ষক একটি ফাঁকা শ্রেণিকক্ষে একমাত্র ছাত্রী সুমনাকে পাঠদান করছেন। অন্যদিকে, সুমনা জানিয়েছেন, “একাই ক্লাস করতে ভালো লাগে না, চাইলে অন্য কলেজে ভর্তি হতে পারলে ভালো হতো।”

কলেজের পটভূমি ও বর্তমান সংকট

১৯৬৯ সালে দানবীর শাহ ফজলুল হক নন্দন মিয়া প্রতিষ্ঠা করেন ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২৩ সালে এটি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়ে “ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ” নাম ধারণ করে।প্রথম ব্যাচে ২২ জন, দ্বিতীয় ব্যাচে ২৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন মাত্র একজন ছাত্রী — সুমনা আক্তার।

প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখা পরিচালনায় শুরুতে ছয়জন প্রভাষককে নিয়োগ দেওয়া হয় মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতনে। বর্তমানে দুজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় শিক্ষকস্বল্পতা প্রকট। ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষাদান কার্যক্রমে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কলেজের জন্য আলাদা ভবন না থাকায় বিদ্যালয়ের একটি কক্ষেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়। কলেজ শাখার নিজস্ব আয় না থাকায় শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় স্কুলের আয়ের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় — গত বছর কলেজ শাখার পাশের হার শূন্য।

শিক্ষক ও প্রশাসনের বক্তব্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন,“একজন ছাত্রী হলেও আমরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছি। যদি সে ভালো ফলাফল করে, সেটাই আমাদের সাফল্য হবে। তবে শিক্ষক কম এবং রুম স্বল্পতার কারণে মাঝে মাঝে তাকে দ্বাদশ শ্রেণির সঙ্গে বসিয়ে ক্লাস নিতে হয়।”

কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন,“প্রথমে ৪৯ জন ভর্তি নিশ্চিত করেছিল, কিন্তু মাইগ্রেশনের কারণে তারা অন্য কলেজে চলে গেছে। আমরা সুমনার পড়াশোনার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হায়দার জানান,“কলেজ শাখাটি নতুন হওয়ায় শিক্ষকস্বল্পতা ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।”

স্থানীয়দের আহ্বান

স্থানীয়রা বলেন, কলেজ শাখাটি যেন টিকে থাকে, এজন্য সরকার ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে। একমাত্র ছাত্রী সুমনার একাকী ক্লাস যেন ভবিষ্যতে অন্যদের অনুপ্রেরণার গল্পে রূপ নেয়, এমন প্রত্যাশাও তাদের।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত