ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বয়লার মুরগি খাচ্ছেন জেনে নেন কোন সাইজের বয়লার মুরগিতে বেশি স্বাদ

২০২৫ নভেম্বর ০৩ ১৬:২১:৪২

বয়লার মুরগি খাচ্ছেন জেনে নেন কোন সাইজের বয়লার মুরগিতে বেশি স্বাদ

বাংলাদেশে ব্রয়লার মুরগি এখন ঘরে ঘরে জনপ্রিয় খাবার। একসময় স্বাদ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে মানুষের মনে সংশয় থাকলেও এখন তা কেটে গেছে। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, ব্রয়লার মুরগির বয়স যত বাড়ে, তত বাড়ে মাংসের স্বাদ, ঘনত্ব এবং প্রোটিনের পরিমাণ।

২৫-২৮ দিনের মধ্যেই বিক্রি, কিন্তু ৩২ দিনের পরেই বাড়ে স্বাদ

বাজারে সাধারণত ২৫–২৮ দিন বয়সী ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করেন খামারিরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩২ দিনের বেশি বয়সে মুরগির ওজন যেমন বাড়ে, তেমনি মাংস হয় আরও সুস্বাদু ও ঘন।ওজন বৃদ্ধির কারণে খামারি লাভবান হন, আর স্বাদের কারণে ক্রেতাও পান বাড়তি সন্তুষ্টি।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল হক বেগ বলেন,

“ব্রয়লার মুরগি চার সপ্তাহ পার হলে এর মাংস সফট থেকে সামান্য হার্ড হয়, যা আসলে ভালো স্বাদের ইঙ্গিত। দুই কেজি সাইজের মুরগি কিনলে ভোক্তা তুলনামূলক বেশি মাংস পান। তাই বড় সাইজের ব্রয়লারই লাভজনক।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “গরম মৌসুমে ব্রয়লারের হার্ট অ্যাটাক ও হিট স্ট্রোকে মৃত্যুহার বাড়ে, তাই খামারিদের ভালো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রাখতে হবে।”

মাংসের ঘনত্ব ও চর্বির প্রভাব

বয়স বাড়লে মুরগির মাংসের ফাইবার ঘন হয় ও প্রোটিন কনটেন্ট বাড়ে, ফলে স্বাদ গভীর হয়।এছাড়া কিছুটা চর্বি জমে, যা রান্নার সময় দেয় “চিকেনি ফ্লেভার”— এই ঘন স্বাদই আসলে বড় বয়সী মুরগির বৈশিষ্ট্য।

রান্নায় ভালো ব্রাউনিং ও প্রাকৃতিক স্বাদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সী মুরগির মেইলার্ড রিঅ্যাকশন ভালো হয়— অর্থাৎ রান্নার সময় মাংসের উপরিভাগে সুন্দর ব্রাউনিং তৈরি হয়, যা বাড়ায় স্বাদ ও গন্ধ। কম বয়সী ব্রয়লারে পানি বেশি থাকায় রান্নায় তা শুকিয়ে যায়, ফলে স্বাদ কমে যায়।

কত দিন পর্যন্ত পালন করা উচিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন,

“৩৫–৪২ দিন বয়সী ব্রয়লারের মাংসের ফাইবার সবচেয়ে ভালো হয়, স্বাদও বেশি। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের মুরগিই আদর্শ।”

তিনি আরও জানান, “বাংলাদেশে বড় বড় ফিড কোম্পানির খাবার নিরাপদ ও মানসম্পন্ন। তাই ঠিকভাবে লালন করলে ব্রয়লারের মাংস একদমই ক্ষতিকর নয়।”

ফ্রোজেন মুরগির বাজারে সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফ্রোজেন মুরগি বিক্রি করলে ভোক্তা ও খামারি দু’জনই লাভবান হবেন। এতে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, অন্যদিকে পোলট্রি মিল তৈরির কাঁচামাল পাওয়া যাবে।শ্রীলঙ্কায় যেমন জীবন্ত মুরগির বাজার নেই, বাংলাদেশেও যদি হিমায়িত মুরগির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে, তবে তা হবে একটি বড় পরিবর্তন।

পোলট্রি মিল: বর্জ্য থেকে পুষ্টি

পোলট্রি মিল হলো জবাই করা মুরগির হাড়, মাথা ও অব্যবহৃত অংশ থেকে তৈরি প্রোটিনসমৃদ্ধ গুঁড়া, যা ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি পোলট্রি শিল্পের জন্য টেকসই সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ