ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

মা-বাবা বিয়ে দিতে না চাইলে গোপনভাবে কিবিয়ে করা যাবে, যা বলছে ইসলাম

২০২৫ অক্টোবর ২৭ ১৩:০১:৩৮

মা-বাবা বিয়ে দিতে না চাইলে গোপনভাবে কিবিয়ে করা যাবে, যা বলছে ইসলাম

যদি আপনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং আত্মনির্ভরশীল হন, তবে হালালভাবে বিয়ে করা আপনার অধিকার। অনেক সময় ছেলে-মেয়ের বয়স, যোগ্যতা বা জীবন পরিস্থিতি থাকার পরও অভিভাবকরা বিয়ে দিতে দেরি করেন। এতে অনেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে পাপের পথে যেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে গোপন বিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে সমস্যার কারণ হতে পারে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ছেলের জন্য সঠিক প্রস্তাব এলে দেরি না করে বিয়ে করানো উত্তম। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ছেলের দ্বীন ও চরিত্রে সন্তুষ্ট হলে তার প্রস্তাব গ্রহণ করুন। না হলে পৃথিবীতে ফিতনা ও অশান্তি সৃষ্টি হবে। (তিরমিজি: ১০৮৪)

কী করতে হবে:১. আল্লাহর সাহায্য নিয়ে ধৈর্য্য ধরে বাবা-মাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। সীমার মধ্যে থেকে সংযম বজায় রাখুন, কোনো অশোভন আচরণ করবেন না।২. গোপনভাবে বিয়ে করা শরীয়তের দৃষ্টিতে যদিও বৈধ হতে পারে, সামাজিকভাবে তা অনুচিত। মেয়ের অভিভাবকদের অজান্তে বিয়ে করলে তা তার জন্যও ক্ষতিকর। তাই পরিবারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিয়ে করুন। প্রতি দিন ফরজ নামাজ শেষে দুই রাকাত সলাতুল হাজত পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে থাকুন।

মা-বাবার অসম্মতিতে বিয়ে করার শর্তসমূহ (ফুকাহার মত):

ছেলে-মেয়ের শরয়ি সক্ষমতা থাকা (শারীরিক, মানসিক, আর্থিক)।

বিয়ে না করলে গুনাহে জড়ানোর সম্ভাবনা থাকা।

মা-বাবার আপত্তি যুক্তিহীন (যেমন: বংশমর্যাদা, গোত্রের কারণে)।

প্রস্তাব শরিয়তসম্মত হওয়া।

ইমাম নববি (রহ.) বলেন, “যখন বিয়ে ফরজ বা ওয়াজিব অবস্থায় এবং অভিভাবকের আপত্তি যুক্তিহীন হয়, তখন তাদের অসম্মতিকে অগ্রাহ্য করা যায়।” (আল-মাজমু: ১৬/৩৪২)

বিয়ের পর বাবা-মা কষ্ট পেলে ছেলে গুনাহ হবে কি?ইসলাম মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। তবে যদি ছেলে ধর্মের বিধান অনুযায়ী বৈধ বিয়ে করে এবং এতে পাপ থেকে রক্ষা পায়, বাবা-মার কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সে গুনাহগার হবে না। কারণ সে আল্লাহর নিষেধকৃত কোনো কাজ করেনি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ