ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কেন কাটে না ক্লান্তি? জানুন কারণ ও করণীয়

২০২৫ অক্টোবর ২২ ১৭:১৭:৪৩

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কেন কাটে না ক্লান্তি? জানুন কারণ ও করণীয়

রাতভর গভীর ঘুম— অনেকের কাছেই এটি শরীর-মন সতেজ রাখার প্রধান উপায়। কিন্তু সকালে উঠে যখন দেখা যায় শরীর ভারী, মন অলস আর ক্লান্তি যেন কাটছেই না— তখন প্রশ্ন জাগে, “আট ঘণ্টা ঘুমের পরও এমন হচ্ছে কেন?”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল সমস্যা ঘুমের সময় নয়, বরং ঘুমের মানে। অর্থাৎ, কেবল দীর্ঘ সময় বিছানায় থাকা মানেই কার্যকর বিশ্রাম নয়। ঘুম যদি নিরবচ্ছিন্ন ও গভীর না হয়, তবে শরীর সম্পূর্ণভাবে পুনরুজ্জীবিত হতে পারে না। নিচে জেনে নিন এই ক্লান্তির পেছনের সাধারণ কারণগুলো—

ঘুমের ব্যাঘাত

রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে শরীর গভীর ঘুমের স্তরে প্রবেশ করতে পারে না। এর ফলে পরদিন সকালে মনে হয় ঘুম হয়নি।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

এটি একটি শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা, যেখানে ঘুমের সময় শ্বাস কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘুম বারবার ভেঙে যায়, সকালে মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দেয়।

বিকেলে ক্যাফেইন গ্রহণ

চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকে থাকা ক্যাফেইন ঘুমের সময়সূচি নষ্ট করে। এতে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুম হালকা হয়ে যায়।

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

রাতের বেলায় মোবাইল বা টিভির পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমায়। এটি ঘুমের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

অনিয়মিত ঘুমের রুটিন

প্রতিদিন আলাদা সময়ে ঘুমানো বা জাগা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে (বডি ক্লক) এলোমেলো করে দেয়, ফলে ঘুম ঠিকভাবে জমে না।

ভালো ঘুমের জন্য করণীয়

১ একই রুটিন বজায় রাখুন – প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান ও উঠুন।

২️ স্ক্রিন টাইম কমান – ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে ফোন, ট্যাব বা টিভি থেকে দূরে থাকুন।

৩️ ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন – ঘর যেন ঠাণ্ডা, অন্ধকার ও নীরব হয়।

৪️ হালকা রাতের খাবার খান – ভারী, তেল-মসলা বা ঝাল খাবার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

৫️ ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন – সন্ধ্যার পর এসব পানীয় এড়ান।

৬️ মনকে শান্ত করুন – ঘুমানোর আগে বই পড়া, মেডিটেশন বা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত বোধ করেন, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন বা শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। কারণ এটি স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্য কোনো ঘুমজনিত রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ