ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর! নতুন পে-স্কেলে মিলছে একাধিক চমকপ্রদ সুবিধা

মো : খুরশেদ আলম
মো : খুরশেদ আলম

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ অক্টোবর ১২ ১০:৪৬:৪৩

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর! নতুন পে-স্কেলে মিলছে একাধিক চমকপ্রদ সুবিধা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে বড় সুখবর। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যা ২০২৬ সালের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, নতুন কাঠামোয় শুধু বেতনই নয়—চিকিৎসা, শিক্ষা ও পদোন্নতিসহ ভাতাতেও আসছে বড় পরিবর্তন।

নতুন পে কমিশনের কাজ শুরু

সরকার গত ২৪ জুলাই “জাতীয় পে কমিশন” গঠন করেছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে। এর লক্ষ্য—একটি ন্যায়সঙ্গত, আধুনিক ও টেকসই বেতন কাঠামো তৈরি করা।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে, যাতে আগামী মার্চ-এপ্রিলেই তা কার্যকর করা যায়।

নতুন কাঠামোয় থাকছে যেসব পরিবর্তন

কমিশনের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন—

বেতন বৃদ্ধি: নতুন পে-স্কেলে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে মেধাবীরা সরকারি খাতে আকৃষ্ট হন।

চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমানে মাসিক ১,৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। অবসরের পরও অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত হতে পারে।

শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধি: সন্তানদের শিক্ষাব্যয় বিবেচনায় শিক্ষা ভাতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।

ন্যায়সঙ্গত বেতন অনুপাত: বর্তমানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১০:১। নতুন কাঠামোয় এটি ৮:১ করার প্রস্তাব আছে, যাতে বেতন বৈষম্য কমে।

সুসংগঠিত কাঠামো: নতুন পে-স্কেল এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে প্রতিটি গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের প্রাপ্য সুবিধা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন।

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিয়ে বিতর্ক

কর্মচারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনঃপ্রবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, পদোন্নতি না পেলে এই সুবিধা আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করত। তবে কমিশনের একাংশ মনে করছে, এই দুটি সুবিধা রাখলে কাঠামো জটিল হয়ে যায়—তাই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সহজ করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।

কমিশনের অগ্রগতি ও মতামত সংগ্রহ

জাতীয় পে কমিশন ইতিমধ্যে প্রথম সভা সম্পন্ন করেছে। কর্মচারীদের পরিবারের গড় সদস্যসংখ্যা ছয় ধরে ব্যয়ের হিসাব তৈরি হচ্ছে। কমিশনের ওয়েবসাইট (paycommission2025.gov.bd)-এ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মতামত দিতে পারবেন।

কবে কার্যকর হবে

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। ২০২৬ সালের মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যেই এটি কার্যকর হবে, এবং এজন্য সংশোধিত বাজেটেই অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।

কারা কী ভাবছেন

নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা চাইছেন সর্বনিম্ন বেতন ১৬-২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হোক এবং বেতন অনুপাত ৮:১ করা হোক।

অন্যদিকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মনে করছেন, ১০:১ অনুপাত বজায় রাখাই ন্যায্য হবে, না হলে উচ্চপদস্থদের বেতন তুলনামূলকভাবে কমে যাবে।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু বেতন বাড়ালেই হবে না—চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা বাড়াতে হবে এবং রাজস্ব আয়ের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত