ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারি চিকিৎসকদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৮ দফা নির্দেশনা

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ সেপ্টেম্বর ১২ ২২:৩৯:০৭

সরকারি চিকিৎসকদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৮ দফা নির্দেশনা

সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের পেশাগত ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন ৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো হাসপাতালের ভেতরে ওষুধ কোম্পানি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অযাচিত প্রভাব প্রতিরোধ করা এবং রোগীদের জন্য নিরপেক্ষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

ডা. এ বি এম আবু হানিফ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি চিকিৎসকদের সেবা মান উন্নত করা ও জনআস্থা বজায় রাখা জরুরি। এর জন্য সব নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে হবে।

নির্দেশনার মূল দিকগুলো:

১. কোনো পরিস্থিতিতেই বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক বা ওষুধ কোম্পানির প্যাডে প্রেসক্রিপশন বা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া যাবে না।

২. সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান পরীক্ষা ও ওষুধ বাইরের প্রতিষ্ঠান থেকে করানো বা কিনতে রোগীকে বলা যাবে না।

৩. সরকার অনুমোদিত সিল ছাড়া অন্য কোনো বেসরকারি সিল ব্যবহার করা যাবে না; তবে জেনেরিক নামের বিজ্ঞাপনবিহীন সিল ব্যবহার করা যাবে।

৪. ওষুধ কোম্পানির সরবরাহ করা ওষুধের তালিকা সরকারি হাসপাতালের টেবিলে রাখা যাবে না।

৫. কোনো কোম্পানির প্রতিনিধি রোগীর প্রেসক্রিপশন বা ব্যক্তিগত তথ্যের ছবি নিতে পারবেন না।

৬. সপ্তাহে নির্ধারিত দুই দিন– সোমবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।

৭. এর বাইরে হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮. সাক্ষাতের সময় কোম্পানি প্রদত্ত আইডি কার্ড অবশ্যই দৃশ্যমান রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশা করছে, এই নির্দেশনা কার্যকর হলে সরকারি চিকিৎসকদের পেশাগত ভাবমূর্তি দৃঢ় হবে এবং রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর আস্থা ফিরে পাবেন। সম্প্রতি বেসরকারি চাপের কারণে অনেক রোগী অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বোঝা বহন করছেন, যা নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধুমাত্র নির্দেশনা নয়, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের ভেতরে পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্যোগটি আরও কার্যকর করা সম্ভব। নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে কোম্পানি ও চিকিৎসকদের উভয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আকাশ /

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত