ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চন্দ্রগ্রহণ ও গর্ভবতী নারী: ইসলাম ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আসল সত্য

২০২৫ সেপ্টেম্বর ০৮ ০৭:০১:১৩

চন্দ্রগ্রহণ ও গর্ভবতী নারী: ইসলাম ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আসল সত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ রাতে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশ থেকেও এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যাবে। আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত বিশ্বাস হলো—চন্দ্রগ্রহণ গর্ভবতী নারীর জন্য ক্ষতিকর। কেউ কেউ মনে করেন এ সময় বাইরে গেলে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারে কিংবা জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। কিন্তু ইসলাম ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

ইসলাম কী বলে?

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন—“সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ ঘটে না। যখন এটি দেখবে, তখন দোয়া করবে, আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করবে, তাকবির বলবে, নামাজ আদায় করবে এবং সদকা করবে।” (সহিহ বোখারি ১০৪০, আবু দাউদ ১১৭৭)

অর্থাৎ, চন্দ্রগ্রহণ কোনো অশুভ বা ক্ষতিকর বিষয় নয়; বরং আল্লাহর মহত্ব স্মরণ ও ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়ার সময়। ইসলামে চন্দ্রগ্রহণ উপলক্ষে সালাতুল খুসুফ (চন্দ্রগ্রহণের নামাজ) পড়া সুন্নত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। এতে চাঁদ সাময়িকভাবে অন্ধকার হয়ে যায় বা লালচে আভা ধারণ করে।

নাসা, মায়ো ক্লিনিক ও আমেরিকান প্রেগন্যান্সি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে:

চন্দ্রগ্রহণের সময় কোনো ক্ষতিকর রশ্মি উৎপন্ন হয় না।

গর্ভবতী নারী বা গর্ভস্থ শিশুর জন্য এর কোনো ঝুঁকি নেই।

জন্মগত ত্রুটি সাধারণত জেনেটিক সমস্যা, পুষ্টিহীনতা বা হরমোনজনিত কারণে হয়, চন্দ্রগ্রহণের কারণে নয়।

করণীয়

মুসলমানদের উচিত এ সময় নফল নামাজ, দোয়া, জিকির ও সদকায় মনোযোগী হওয়া।

ভ্রান্ত ধারণা থেকে দূরে থেকে গ্রহণকে আল্লাহর একটি নিদর্শন হিসেবে দেখা।

গর্ভবতী নারীদের ভয় না পেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা।

সারকথা: চন্দ্রগ্রহণ কোনো বিপজ্জনক ঘটনা নয়। ইসলাম এটিকে ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখেছে, আর বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে—গর্ভবতী নারীর জন্য এতে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ