ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্যাংকে গভীর সংকট: মূলধন সংকটে ২৩ ব্যাংক
মো : মারুফ হোসেন
সিনিয়র রিপোর্টার
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এক ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ২৩টি ব্যাংক বর্তমানে মূলধন ঘাটতির ফাঁদে পড়েছে। এদের সম্মিলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ২৮৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা—যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ঘাটতির কারণ: অনিয়ম, দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বচ্ছতার অভাব এবং খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “এতোদিন অনেক ঋণ গোপন রাখা হয়েছিল। এখন প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে বলেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ হু-হু করে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যাংকের মূলধনের ওপর।”
কারা সবচেয়ে সংকটে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: ১৮,৯৪৫ কোটি টাকা ঘাটতি
ইউনিয়ন ব্যাংক (এস আলম গ্রুপ): ১৭,৪৯২ কোটি টাকা
জনতা ব্যাংক: ১২,৭৬৮ কোটি টাকা
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এস আলম): ৭,৭৯০ কোটি টাকা
ন্যাশনাল ব্যাংক: ৬,৯৩৮ কোটি টাকা
ইসলামী ব্যাংক (এস আলম): ৬,৪৫৪ কোটি টাকা
অগ্রণী ব্যাংক: ৫,৮২২ কোটি টাকা
পদ্মা ব্যাংক: ৫,১৭০ কোটি টাকা
রূপালী ব্যাংক: ৪,৪৭০ কোটি টাকা
এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকও মূলধন ঘাটতির তালিকায় রয়েছে।
সরকারের পরিবর্তনের প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একাধিক ইসলামী ও বেসরকারি ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অতীতে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় যারা অনিয়ম ও লুটপাট চালিয়েছিল, তাদের অবস্থাই এখন সবচেয়ে সংকটাপন্ন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে—
ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলো থেকে পুনর্গঠিত মূলধন পরিকল্পনা চাওয়া হবে।
পরিকল্পনা কার্যকর না হলে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ চলছে, পাশাপাশি আরও ১১টির আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের তদারকির ঘাটতি ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এ সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র
২০২৫ সালের মার্চ শেষে দেশে বিতরণকৃত মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট ঋণের ২৪.১৩%।মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা—যা ব্যাংক খাতের জন্য এক অশনিসংকেত।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো ব্যাংকিং খাত ধসের মুখে পড়তে পারে। খেলাপি ঋণের জাল ছিন্ন করা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানো ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- একলাফে কমলো তেলের দাম, ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ ধস
- নবম পে স্কেলে বড় চমক
- ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রধানমন্ত্রীর
- বিশ্বকাপে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের ফল জানিয়ে দিল হাঙর রিতিনিয়া
- আকাশচুম্বী সোনার দাম: বাংলাদেশে ভরি প্রতি নতুন রেকর্ড ছাড়ালো
- ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে যেসব বড় সুবিধা
- ব্রাজিল বনাম মিশর ম্যাচের সময়সূচি জানুন
- বাংলাদেশ-ভারত মহারণসহ ৩১ মে’র জমজমাট খেলার সূচি, রাতে আইপিএল ফাইনাল
- রিয়াদের অবস্থা খুব খারাপ
- আজ রাতে ব্রাজিল বনাম পানামা ম্যাচ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- আর্জেন্টিনা বনাম হন্ডুরাস: জেনেনিন মাচের সময়সূচি
- রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল, পানামা ম্যাচটি যেভাবে দেখবেন লাইভ
- টানা তিন দফা কমল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি নেমে এলো
- বাংলাদেশ বনাম ভারত: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- ব্যাপক চমকে শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ