| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

দারুন সুখবর ; ট্রফি জিতে রোনালদোর সঙ্গি হলেন মেসি

২০২২ জুন ০২ ১২:৩২:২২
দারুন সুখবর ; ট্রফি জিতে রোনালদোর সঙ্গি হলেন মেসি

ইতালির বিরুদ্ধে ট্রফি জিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছুঁয়ে ফেললেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি। প্রায় ২৯ বছর পর আয়োজিত ফিনালিসিমায় বুধবার রাতে ৩-০ গোলে ইতালিকে পরাস্তা করে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা।

লড়াইটা ছিল ইউরোপের সেরা বনাম লাতিন আমেরিকার সেরা দলের। কোপা আমেরিকা বিজয়ী আর্জেন্টিনা ও ইউরো কাপ বিজয়ী ইতালির মধ্যে। শেষ হাসি লাতিন আমেরিকারই। কোপা আমেরিকার পর আবার দেশের হয়ে ট্রফি জিতলেন লিওনেল মেসি। আর এর মধ্য দিয়েই ছুঁয়ে ফেললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। পর্তুগালের তারকা ফুটবলার দেশের হয়ে ইউরো কাপ এবং ন্যাশনস লিগ জিতেছেন। মেসি কোপা আমেরিকার পর ফিনালিসিমাও জিতলেন। অর্থাৎ, দেশের হয়েও ট্রফির নিরিখেও সমান-সমান হয়ে গেলেন মেসি-রোনালদো। বুধবার আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এবং পাওলো দিবালা।

শক্তিশালী ডিফেন্সের জন্য এক সময় গোটা বিশ্বে সমাদৃত হতো ইতালি। তাদের ‘কাতানেচ্চিও’ সিস্টেম বিশ্বের বহু দেশ পরে অনুকরণ করা শুরু করে। সেই ইতালিরই ডিফেন্সের এখন যা হাল, দেখতে শিউরে উঠতে হয়। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জিওর্জিও কিয়েল্লিনি এবং লিওনার্দো বোনুচ্চি, দু’জনেরই বয়স হয়েছে। দু’প্রান্তে এমার্সন এবং জিওভান্নি দি লোরেঞ্জোও চূড়ান্ত হতাশ করেছেন। গোলকিপার জিয়ানলুইগি ডোনারুম্মা না থাকলে এদিন আরও লজ্জার মুখে পড়তে হত ইতালিকে।বুধবার নজর ছিল একজনের দিকেই। তিনি লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা ছাড়ার পর থেকে গোটা জীবনটাই বদলে গেছে তার। প্যারিসে গিয়ে শুনতে হয়েছে ব্যঙ্গাত্মক শিস। পরিবারকে পড়তে হয়েছে কটাক্ষের মুখে। চোট-আঘাতে অনেক ম্যাচে খেলতে পারেননি। কিন্তু দেশের হয়ে এখন তিনি অনেক বেশি দায়িত্ববান, অনেক বেশি খোলামেলা। সম্ভবত দেশের জার্সিতে আগে একটি ট্রফি জিতে ফেলেছেন বলে তার মাথায় থাকা বিরাট প্রত্যাশার চাপটা চলে গেছে।

ইতালির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে একটি ফ্রি কিক মিস করেন মেসি। একটু নিচে থেকে খেলছিলেন এদিন। গোল করার থেকে খেলা তৈরি করায় মন দিয়েছিলেন বেশি। তাতেও আর্জেন্টিনার প্রথম গোল এল তার পাস থেকেই। জিওভান্নি লো সেলসোর থেকে বল পেয়েছিলেন মেসি। বাঁ দিক দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতেই পাস দেন লাউতারো মার্তিনেসকে। চলতি বলে পা ছুঁইয়ে গোল করেন মার্তিনেস। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভূমিকা সামান্য পাল্টান তিনি। আর তাতেই অন্য চেহারায় দেখা গেল আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে। আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন তিনি। ৬৩ থেকে ৬৬, মাত্র চার মিনিটে ঝড় বইয়ে দিলেন। ডান দিকে অসাধারণ একটি পাস দিয়েছিলেন লো সেলসোকে, যা অনায়াসে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল হতে পারত। এরপরই আর্জেন্টিনার বক্সের সামান্য বাইরে জর্জিনহোর পা থেকে বল কেড়ে লম্বা দৌড় দিলেন। ইতালির বক্সে পৌঁছে তার নেওয়া শট কোনও মতে বাঁচালেন ডোনারুম্মা। দু’মিনিট পরই আবার মেসির জাদু। এবার ডান পায়ে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচালেন ইতালির গোলকিপার। গোল পেলেন না ঠিকই। কিন্তু ম্যাচের শেষ গোলের পাসও এল মেসির পা থেকেই।

বুধবারের ম্যাচে প্রথম থেকেই দাপট ছিল মেসিদের। আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করে। পাঁচ মিনিটের মাথায় ইতালির বক্সের সামান্য বাইরে মেসিকে ফাউল করেন জর্জিনহো। মেসির ফ্রি কিক ওয়ালে লাগে। ২১ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ইতালি। জিয়াঙ্কোমো রাস্পাদোরির ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করার চেষ্টা করেন আন্দ্রে বেলোত্তি। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দক্ষতায় আর্জেন্টিনা সে যাত্রায় বেঁচে যায়।

সাত মিনিট পরই অবশ্য এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির পাস থেকে গোল করেন মার্তিনেস। বিরতির সামান্য আগে আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। গোলকিপার এমিলিয়ানোর পাস এসে পড়ে মার্তিনেসের পায়ে। তিনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডি মারিয়াকে পাস দেন। আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ উইঙ্গার গোল করতে ভুল করেননি। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনাকে আরও আক্রমণাত্মক খেলতে দেখা যায়। বিপক্ষ গোলকিপারের জন্যই এগিয়ে যেতে পারেনি তারা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে আর মেসিদের ধরে রাখতে পারেনি ইতালি। পরিবর্ত হিসেবে নামা দিবালা আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল করেন।

দেশের হয়ে এদিনই শেষ ম্যাচ খেললেন কিয়েল্লিনি। বিদায়বেলায় মাঠ ছাড়তে হল মাথা নিচু করেই।

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফুটবল এর সর্বশেষ খবর

ফুটবল - এর সব খবর



রে