ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন ইস্যুতে কড়া বার্তা বিসিসিআইয়ের—বিশ্বকাপে নতুন বিতর্ক

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১১:৩১:১৮

বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন ইস্যুতে কড়া বার্তা বিসিসিআইয়ের—বিশ্বকাপে নতুন বিতর্ক

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ভারতের বিভিন্ন ভেন্যুতে। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে দল পাঠাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি আইসিসিকে অবহিত করে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ জানায়।

ভেন্যু স্থানান্তর নিয়ে বিসিসিআইয়ের অবস্থান

তবে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই এই প্রস্তাবকে সহজভাবে দেখছে না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিসিসিআইয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে শেষ মুহূর্তে সূচি পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী,

“এটি একেবারেই একটি লজিস্টিক দুঃস্বপ্ন। একটি ম্যাচ স্থানান্তর মানেই পুরো টুর্নামেন্টের সূচি এলোমেলো হয়ে যাবে।”

বিসিসিআই মনে করছে, প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে—

আন্তর্জাতিক দলের ভ্রমণ পরিকল্পনা

বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিং

সম্প্রচার স্বত্ব ও বাণিজ্যিক চুক্তি

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি

এমন অবস্থায় প্রতিদিন তিনটি করে ম্যাচ চলা বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ সরানো মানেই পুরো ব্যবস্থাপনা নতুন করে সাজাতে হবে, যা এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়।

মুস্তাফিজ ইস্যুতে বাড়ে উত্তেজনা

এরই মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর চাপের মুখে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়া মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গন ও ভক্তসমাজ।

সরকারের অবস্থান

ঘটনার পরপরই সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি লেখেন,

“চুক্তির আওতায় থেকেও যদি কোনো বাংলাদেশি খেলোয়াড় ভারতে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে জাতীয় দলও সেখানে খেলতে স্বস্তি পাবে না।”

তিনি বিসিবিকে আইসিসির কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ জানাতে বলেন, যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ছাড়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়?

বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যখন রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলছে, তখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম?

এই বিষয়ে বিসিসিআইয়ের যুক্তি হলো, পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত আগেই নির্ধারিত ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের অনুরোধ এসেছে শেষ মুহূর্তে। ফলে সেটি বাস্তবায়ন করা কঠিন।

এখন দেখার বিষয়, আইসিসি শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে—নিরাপত্তা নাকি লজিস্টিক বাস্তবতা, কোনটি পাবে অগ্রাধিকার?

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ