ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিকের দাবি

২০২৬ মে ৩১ ১৯:০১:০৪

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিকের দাবি

নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক কার্যকরের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ধাপে ধাপে সীমিত বেতন বৃদ্ধি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না।

রোববার (৩১ মে) সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ১১ বছর পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতনে মৌলিক কোনো পরিবর্তন না এলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক কর্মচারীকে সংসারের খরচ সামাল দিতে অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।

সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে নবম পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। সেখানে প্রথম ধাপে বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও এমন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাবেন না বলে মনে করছেন তারা।

তাদের মতে, অতীতে নতুন পে স্কেল কার্যকরের সময় প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বেতন বাস্তবায়ন করা হতো এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হতো। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও প্রথম ধাপে পূর্ণ বেসিক কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা সমন্বয় করা যেতে পারে এবং পরবর্তী ধাপে বাসাভাড়া ও অন্যান্য ভাতা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

কল্যাণ সমিতির নেতারা আরও বলেন, যদি প্রথম ধাপে মাত্র ৫০ শতাংশ বেসিক বৃদ্ধি কার্যকর করা হয় এবং একই সঙ্গে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে অনেক কর্মচারীর প্রকৃত আর্থিক সুবিধা খুবই সীমিত হবে। এতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরও অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দীর্ঘ তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে বাজারে বারবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে বেতন বৃদ্ধি হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গিয়ে কর্মচারীদের প্রকৃত উপকার কমে যেতে পারে।

সংগঠনটির দাবি, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়ন করা হলে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং সরকারি চাকরিজীবীরা প্রকৃত অর্থে নতুন পে স্কেলের সুফল ভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব পে স্কেল উপহার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত