ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

৩৩ টাকায় আপেল, ২৮ টাকায় মরিচ আমদানি

২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১২:৪৯:২১

৩৩ টাকায় আপেল, ২৮ টাকায় মরিচ আমদানি

বাংলাদেশে ফল ও কৃষিপণ্য আমদানিতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩৩ টাকা কেজি দরে আপেল এবং ২৮ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ আমদানি দেখানোর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টি ঘিরে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠান গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজ গত তিন বছরে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করেছে অস্বাভাবিক কম দামে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির তথ্য দিয়েছে, যার বড় অংশ এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই আমদানির বেশিরভাগ এলসি খোলা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক এর মাধ্যমে। তবে বাজারদরের সঙ্গে আমদানি মূল্যের বিশাল পার্থক্য থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে আপেলের দাম কয়েকগুণ বেশি, সেখানে এত কম দামে আমদানি দেখানোকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, যে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এসব পণ্য আমদানি দেখানো হয়েছে, তারা মূলত পোশাক ও গহনার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে পণ্যের উৎস এবং প্রকৃত লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কম দামে আমদানি দেখানোর পেছনে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ কৌশল থাকতে পারে। এতে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে বাকি অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়, অন্যদিকে অবৈধ অর্থ পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং আমদানির পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে যেখানে দেশীয় বাজারে আপেল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ২৫০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, সেখানে এত কম দামে আমদানির তথ্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে। ফলে এই ঘটনা এখন দেশের আর্থিক খাতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত